এমওইউ চূড়ান্ত আগামী সপ্তাহে সই
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘকে যুক্ত করছে মিয়ানমার

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১ জুন, ২০১৮

বাংলাপ্রেস, নিউ ইয়র্ক : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে যুক্ত করছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) দপ্তর গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহে এটি সই হবে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
এদিকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ওই এমওইউর আওতায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নে নেপিডোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের যাচাই করা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দেখবে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে যথাসময়ে ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এর আওতায় গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করতে একটি এমওইউ সই করে।
জানা গেছে, মিয়ানমার শুরুতে জাতিসংঘ বা এর কোনো সংস্থাকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি ছিল না। কিন্তু প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে মিয়ানমার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে গতকাল মিয়ানমার এমওইউ সইয়ে সম্মত হয়েছে।
সু চির দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের কাজে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআরকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর বলেছে, ত্রিপক্ষীয় এমওইউটি আগামী সপ্তাহে সই হবে বলে ঠিক হলেও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এই এমওইউ রোহিঙ্গাদের তাদের মূল বাসস্থান বা পছন্দের স্থানে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে এই এমওইউ রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের উদ্যোগকে সহায়তার প্রথম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তা ছাড়া এই এমওইউ ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপিকে রাখাইন রাজ্যে এবং বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বসতভূমি ও তাদের সম্ভাব্য ফেরার স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার দেবে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে ওই সংস্থা দুটিকে রাখাইনে ঢুকতে দিচ্ছে না মিয়ানমার।
ইউএনএইচসিআর জানায়, রাখাইন রাজ্যে প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর সংস্থাটি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে এবং সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবে। এর ফলে ইউএনএইচসিআর রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন এলাকাগুলো সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের আলাদাভাবে তথ্য জানাতে সক্ষম হবে। এতে রোহিঙ্গারা সঠিক তথ্য জেনে ফেরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ছাড়া এমওইউর আওতায় জাতিসংঘের সংস্থা দুটো ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর চাহিদা মূল্যায়ন করবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
ইউএনএইচসিআর আরো বলেছে, আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করতে মিয়ানমারের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটছে এই এমওইউয়ে।
ইউএনএইচসিআরের অপরাশেন্সবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার জর্জ ওকোথ-ওবো গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে এখনো অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে রোহিঙ্গাদের তাদের বসতভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারকে ইউএনএইচসিআর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং স্বেচ্ছায়, সম্মানজনক, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনেই এ সংকট সমাধান হতে পারে।