আসুন আমরা রাজনৈতিক খেলায় নামি: বিএনপিকে নাসিম

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
২৮ জুন, ২০১৮

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক নাসিম বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “আজকে খেলা হচ্ছে বিশ্বকাপে (ফুটবল), আসেন আমরা রাজনৈতিক খেলায় আমরা নামি। চলুন ফিল্ডে নামি। খেলা হবে মাঠে। দেখা যাবে কি জিতে? ঢাকায় বসে বড় বড় কথা বলে আসলে কোনো লাভ নাই।” বুধবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি এখন এত বিফ্রিং করে। এত ব্রিফিং আগে দেখিনি। ওদের তো একজন ব্রিফিং মাস্টারও আছে। তিনি বলেন, এত যখন অভিযোগ, তখন মাঠে শক্ত কর্মী নিয়ে নামুন। যারা অন্যদের কাছে বিক্রি হবে না। মাঠে শক্ত লোক নাই। নিধিরাম সর্দারের মতো খালি অভিযোগ করেন কেন?”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপি বলছে, বর্তমান সংবিধান দলীয় সরকারের অধীনে ভোট হলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না। নাসিম বলেন, “এই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইস্যুটি শুনলে মনে হয়, এটি আসলে সেমিনারের ভাষা। বাস্তবে আসলে এর কোনো সংযোগ নেই।”

বিশ্বের নানা দেশের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “দুনিয়ার কোথাও হান্ড্রেড পারসেন্ট ফেয়ার ইলেকশন হয় না। যারা মাঠে নির্বাচন করেন, তারা জানেন নির্বাচনে নানা সমস্যা থাকে। সত্যিটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। হান্ড্রেড পারসেন্ট ফেয়ার ইলেকশন রয়েছে, এটা আসলে তত্ত্বের মতো শোনায়। ”

২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ শব্দবন্ধটি আলোচনায় এসেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিধি মেনে বঙ্গভবনে গিয়ে লতিফুর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন। অথচ তারপর তিন মাস ধরে আমাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হল? প্রশাসনে ১২ জন সচিবকে বদলি করা হল। নির্বাচনকে কীভাবে ভণ্ডুল করা যায়, তার চক্রান্ত হল। সেই তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের প্রথম নমুনা সৃষ্টি হল। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনও আগের বারের মতোই হবে বলে বিএনপির উদ্দেশে বলেন নাসিম।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোটের হার ‘কাঙ্ক্ষিত ছিল না’ স্বীকার করে তিনি বলেন, “বিএনপি তখন জ্বালাও-পোড়াও করছে। এজেন্টদের হত্যা করছে। পুলিশদের পুড়িয়ে মারছে। তখন অনেক মানুষ ভয়ে ভোট দিতে যায়নি। যদি কেউ বলেন, তখন অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি, তার দায় বিএনপির, আওয়ামী লীগের না।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, কলামনিস্ট-সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক এলাহী চৌধুরী, বিএফডিসির সাবেক মহাপরিচালক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই আলোচনায় অংশ নেন।

বাংলাপ্রেস/এফএস