বাংলাপ্রেস অনলাইন : এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ের পর এবার প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করল বাংলাদেশের মেয়েরা। সেটিও বিদেশের মাটিতে, কঠিন কন্ডিশনে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চিত করল সিরিজ জয়। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেছে ২-০ ব্যবধানে।
ডাবলিনে শুক্রবার আইরিশ মেয়েদের ১২৪ রানে আটকে রেখে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ বল বাকি রেখে। আগের দিন প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশ জিতেছিল ৪ উইকেটে। বাংলাদেশের জয়ে দারুণ এক ফিফটি করেছেন শামিমা সুলতানা। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের মেয়েদের তিনটি ফিফটির দুটিই এখন শামিমার। এশিয়া কাপ ফাইনাল ও এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ, টানা দুটি ম্যাচ শেষ বলে জয়ের পর এবারও বাংলাদেশের জয় শেষ ওভারে। তবে জয়টি আসতে পারত আরও অনায়াসে।
এক সময় সহজ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। ৩৯ বলে যখন প্রয়োজন ২৯ রান, হাতে তখনও ৯ উইকেট। কিন্তু থিতু বড় শট খেলতে গিয়ে দুই ব্যাটারের বিদায়, পরের ব্যাটারদের অহেতুক বাজে শটে কঠিন হয়ে যায় কাজ। আবারও শেষ ওভারে গড়ায় ম্যাচ। প্রয়োজন ছিল ৬ রান। তবে এবার আর শেষ বলের স্নায়ুর পরীক্ষায় যেতে হয়নি। প্রথম বলেই দুর্দান্ত এক ছক্কায় দলকে জিতিয়ে দেন সানজিদা ইসলাম।
সকাল ১১টায় শুরু ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আইরিশদের আবারও শুরুতেই ভোগান জাহানারা। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে বোল্ড করে দেন ক্লেয়ার শিলিংটনকে। নিজের পরের ওভারে এই পেসার বোল্ড করে দেন তিনে নামা গ্যাবি লুইসকেও। ১৩ রানে ২ উইকেট হারানো আইরিশরা ঘুরে দাঁড়ায় তৃতীয় উইকেটে। অধিনায়ক লরা ডেলানিকে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়েন ওপেনার সিসিলিয়া জয়েস।
২০ রান করা ডেলানিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রুমানা। এরপর নাহিদা আক্তারের স্পিনে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। পরপর দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে এই বাঁহাতি স্পিনার চাপে ফেলে দেন আইরিশদের। সিসিলিয়া অবশ্য টিকে ছিলেন। তিনিই দলকে নিয়ে যান একশর ওপারে। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৬০ রান করে আউট হন লেগ স্পিনার ফাহিমাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।
ফাহিমার করা ইনিংসের শেষ ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কায় আয়ারল্যান্ড দিতে পারে ১২৫ রানের লক্ষ্য। আগের দিনের চেয়ে লক্ষ্য ছিল কম। আগের দিনের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয় আরও ভালো। ইসোবেল জয়েসের প্রথম ওভারেই দৃষ্টিনন্দন দুটি কাভার ড্রাইভে শুরু করেন শামিমা। পরের ওভারে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কা মারেন আয়েশা রহমান।
আয়েশা অবশ্য ফিরে যান ৭ রানেই। তবে দ্বিতীয় উইকেটে রেকর্ড জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন শামিমা ও ফারজানা হক। ৭৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের আগের সেরা জুটি ছিল ২০১৩ সালে আয়েশা ও লতা মণ্ডলের ৫০ রান। ৪৯ বলে ৫১ রান করে আউট হন ছক্কার চেষ্টায়। একই চেষ্টায় বিদায় নেন ৩৪ বলে ৩৬ রান করা ফারজানা।
তখনও ঠিক চাপে পড়েনি বাংলাদেশ। তবে শঙ্কার শুরু রুমানা আহমেদকে দিয়ে। রান রেটের কোনো চাপ ছিল না, তার পরও অযথাই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে রুমানা বিলিয়ে আসেন উইকেট। শেষ দিকে দ্রুত রান করার সামর্থ্য আছে যার, সেই ফাহিমাও আউট বাজে শটে। হুট করেই আবার জমে যায় ম্যাচ। দারুণ কিছুর সম্ভাবনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে আইরিশরা। তবে সহজ ম্যাচ কঠিন করে হলেও শেষ পর্যন্ত জিতেছে বাংলাদেশই।
বাংলাপ্রেস/এফএস