আগামী নির্বাচনে জনপ্রিয়তা দেখে মনোনয়ন : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
৭ জুলাই, ২০১৮


বাংলাপ্রেস অনলাইন: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে- তা ধরেই প্রস্তুতি নিতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে এমপিদের নির্দেশ দেন। এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে। তাই দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে। সেইভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আগামী নির্বাচনে নামে হোক, আর বেনামে হোক বিএনপি অংশ নেবে। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের দিন সব এমপিকে সংসদে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী।
বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী রোববার সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হবে। বিল পাসের সময় বিভক্তি ভোটসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে গতকাল বৈঠকে এমপিদের ব্রিফিং করা হয়। গত ১০ এপ্রিল বিলটি সংসদে উত্থাপনের পরে সংসদীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে ৬ জুন সংসদের বৈঠকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বিলে সংসদের সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিল পাসের দিন সব এমপিকে সংসদের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদ সদস্যদের সবাই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নাও পেতে পারেন- এমন কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান এমপিরা সবাই মনোনয়ন পাবেন, বিষয়টি এমন নয়।
অনেকেই বাদ পড়তে পারেন। জনপ্রিয়তা দেখে নমিনেশন দেয়া হবে। গত নির্বাচনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। এটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আগামী নির্বাচনেও যে কাউকে এ ধরনের ত্যাগস্বীকার করতে হতে পারে। সবাইকে এ ধরনের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, নারী সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী এমপিদের এলাকা চিহ্নিত করে দেয়া হলেও তারা ওই এলাকায় মনোনয়নের প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলের সংরক্ষিত আসনের নারীদের এলাকায় গিয়ে খবরদারি না করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচিত এমপি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পরস্পরের মধ্যে বিষোদ্গার না করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক নারী সংসদ সদস্য তার নিজের এলাকা বা তার জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে খবরদারি করেন। এ তথ্য তার কাছে রয়েছে। এ ধরনের খবর তিনি আর শুনতে চান না। এলাকায় গিয়ে কাউকে খবরদারি না করতেও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক এলাকায় সংসদ সদস্য ও যারা নতুন করে মনোনয়ন চাচ্ছেন তারাও একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না। যিনি এমপি তারও এলাকায় গিয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে। যিনি মনোনয়ন চান তারও সেই অধিকার আছে। পরস্পরের মধ্যে দোষারোপ না করে সবাইকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ভোট চাইতে হবে। তৃণমূলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
বৈঠকে সংসদ সদস্য মন্নুজান সুফিয়ান সংসদের মেয়াদ ১০ বছর করার প্রস্তাব করলে প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। বৈঠকে একজন নারী সংসদ সদস্য সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির ক্রেডিড ডিসি/এসপিরা নেন বলে অভিযোগ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তাদেরও তো অংশগ্রহণ রয়েছে।

বাংলাপ্রেস/ইউএস