কানেকটিকাটে বাক নির্বাচন: অসামাজিক কাজে জড়িতদের সমর্থন দিলো স্টামফোর্ড বখতিয়ার সোসাইটি!

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিভিন্ন অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত চিহ্নিত তিন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন কানেকটিকাটের স্টামফোর্ড ভিত্তিক ইসলামিক সংগঠন বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা। এ ঘটনায় প্রবাসীদের মাঝে নিন্দার ঝড় বইছে।
নুরু-হুমায়ুন পরিষদের সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম নুরু’র বিরুদ্ধে একাধিক অসামাজিক কর্মাকন্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি গত ২০১১ সালে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্যাস স্টেশনসহ গ্রোসারির দোকানে অবৈধভাবে ব্লু-ফিল্মের (নীল ছবি) বিক্রির সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
২০১৭ সালের ২৬ আগষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর আয়োজনে মেরিডেন শহরের থমাস এডিসন মিডল স্কুলের মিলনায়তনে বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের সাহাযার্থে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেন বাক-এর নবনির্বাচিত কামাল-হুমায়ুন পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসেবে আনা হয়েছিল প্রখ্যাত গণশিল্পী ফকির আলমগীর এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভীন। অনুষ্ঠনে মোটা অংকের তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। উক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি নুরুল আলম নুরু অনুষ্ঠানে আদায়কৃত অর্থ তার বাড়িতে নিয়ে যান। গত ৫ বছরে সেই অর্থ বন্যাদুর্গতদের জন্য দেশে না পাঠিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়,  সেই অনুষ্ঠানে রিজিয়া পারভীনকে দিয়ে ‘দামাদাম মাস্ত কালান্দার’ উর্দু গান গাইয়ে কানেকটিকাটে বাংলা সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চালুও চালু করেন নুরু-হুমায়ুন গং।

এছাড়াও, তিনি একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত বলে জানা গেছে। গত ২০১৯ সালে চাকুরি ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক হিন্দু নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন। বিয়ের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন তার সাথে চুটিয়ে প্রেম করেন। একপর্যায়ে ওই মহিলাকে দিয়ে তার স্বামীকে ডিভোর্স করারও বন্দোবস্ত করেন তিনি। ঘটনা জানাজানি হলে ছোট শিশুসহ ভাড়া বাড়ি থেকে সেই মহিলাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেন নুরু-হুমায়ুন পরিষদের সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম। ওই সময় সাধারন সম্পাদক  সাংগঠনিক সম্পপাদক ও বর্তমান সা. সম্পাদক পদপ্রার্থী হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী নুরু ও তার সেই প্রেমিকাকে নানাভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ যোগান। তিনি মাঝে মাঝে নুরুর সেই প্রেমিকাকে বাজার সদাইও করে দিতেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে নিউ ইয়র্ক থেকে বারবার মহিলা শিল্পী এনে নুরুর সাথে ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ করে দিতেন হুমায়ুন। মোদ্দা কথা অভিসারের জন্য সে নুরুকে নিয়মিত মেয়ে সরবরাহ করতেন বলেও জানা যায়।  হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী বিয়ে না করে ঢাকার প্রমিথিউস ব্যান্ডের একজন জনপ্রিয় শিল্পীর স্ত্রীকে বাগিয়ে নিজের আয়ত্তে নিয়ে এখন দেদারসে তার সাথে প্রেম করছেন এবং নিউ ইয়র্কের জামাইকার একটি বাড়িতে বসবাস করছেন। শুধু রাজনীতি করার স্বার্থে তিনি কানেকটিকাটে তার বোনের ব্রিজপোর্টের ঠিকানা ব্যবহার করে থাকেন। তিনি কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হয়েও নির্বাচন কমিশনসহ সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ অরাজতৈনিক সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর সাধারন সম্পাদক পদে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।
এদিকে, নুরু-হুমায়ুন পরিষদের সহ-সভাপতি প্রার্থী তারেকুল আম্বিয়া তারেকের আশকারায় কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে বায়তুল মামুর মসজিদে বেশ কয়েক দফা মারামারি ও অপ্রীতিকর ঘটনাসহ তার (কোষাধ্যক্ষ) হাতে মসজিদের ইমাম চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।
২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মামুর মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের আহমেদ প্রতি সপ্তাহের ন্যায় মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ করাচ্ছিলেন। মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে আসার কথা থাকলেও প্রায় ১৫/২০ মিনিট বিলম্বে নিজ সন্তানকে নিয়ে আসেন মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ তারেক আম্বিয়া। তিনি দরজার কড়া নাড়তে থাকেন। ভেতর ক্লাশ চলছিল তাই কড়ার শব্দ বুঝতে পারেননি ইমাম জোবায়ের আহমেদ। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় ইমামের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারেক আম্বিয়া। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন ইমামকে। ইমাম তাকে ভদ্রভাবে কথার বলার অনুরোধ করলে তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, এক পর্যায়ে তারেক ইমামকে নিকৃষ্ট পশুর সঙ্গেও তুলনা করেন। এ কারণে ইমাম জোবায়ের আহমেদ চরম লাঞ্ছিতবোধ করেন। মনোকষ্ট নিয়ে নিজ বাসায় ফিরে যান ইমাম। ওইদিন থেকে তিনি আর মসজিদে আসেননি। পরে অন্য আরেকজন ইমামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মনের দুঃখে তিনি কানেকটিকাট ছেড়ে মিশিগানে চলে যান। তারেক ফেসবুকে মসজিদের ফান্ড রাইজিং বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি নিয়মিত মদ, বিয়ার ও ওয়াইনের বিজ্ঞাপনও চালান। তার ভাই তৌফিফুল আম্বিয়া টিপু তার একটি ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমেও ম্যানচেস্টার প্রবাসী বাংলাদেশি মুসল্লিদেরকে ‘শয়তান’ বলে গালাগালি করেন।

এসব প্রার্থীদের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডের কথা আংশিকভাবে জেনেও কেন একটি পুর্ণ প্যানেলকে সমর্থন দিলেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্টামফোর্ড ভিত্তিক ইসলামিক সংগঠন বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার খাদেম ও শুধু কাগজের সভাপতি আলী আকবর বাপ্পীকে বলেন, সব ঘটনা তার জানা ছিলো না। বিশেষ করে তারেক আম্বিয়া কর্তৃক মসজিদের ইমাম লাঞ্ছিত হবার ঘটনা। তিনি আমার কাছ থেকেই প্রথম  শুনলেন। আর নুরুল আলম নুরু’র হিন্দু নারী সাথে অবৈধ সম্পর্ক বা পরকীয়া প্রেমের কথা শুনেছেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে নুরুর সাথে কথা বললে তিনি তার কাছে তা স্বীকার করেন সে কারণেই ওই হিন্দু মহিলার অভিযোগ তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। অথচ ওই মহিলা বেশ কয়েক দফা তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে ব্যাখ্যা করলে তিনি ঐ মহিলাকে মুসলমান হবার জন্য হেদায়েতও করেন। এ প্রতিনিধির তাদের দু’জনের সম্মতিপূর্ণ অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ আছে এমন প্রমাণ দেখালে আপনার সুন্নি সোসাইটি এখন কি এসব প্রার্থীদের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে সবার সাথে কথা বলে মিটিং করতে হবে। এ প্যানেলকে সমর্থন দেওয়ার আগেও  তাদের মিটিং হয়েছিল বলে জানান তিনি।
স্টামফোর্ড ভিত্তিক ইসলামিক সংগঠন বখতিয়ার সুন্নি সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা এ ধরনের  অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত চিহ্নিত ব্যক্তিদের সমর্থেনের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রই নিন্দার ঝড় উঠে। বেশ কিছু প্রবাসী জানান  একটি ইসলামিক সংগঠন হয়ে অ-ইসলামিক, অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িতদের সমর্থেনের বিষয়টি দ্রুত স্টেট ডিপার্টমেন্টে জানিয়ে দিলে তাদের অ-লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত হলে এ সুন্নি সোসাইটির অভ্যন্তরে আর কি কি অপকর্ম হয় তা অনায়াসে বেরিয়ে পড়বে। ফলে তাদের অ-লাভজনক প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে রেজিষ্ট্রেশন বাতিলও হতে পারে।

বিপি।এসএম