কানেকটিকাটে বাক নির্বাচন
পরকীয়া হেনস্থায় অসহায় নারীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন সভাপতি প্রার্থী নুরু

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ছবি: বামে নুরুল আলম নুরু (ফেসবুক থেকে নেওয়া), ডানে স্নিগ্ধা রায় (প্রতিকী)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে একটি প্যানেলের পরকীয়া আসক্ত সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম ওরফে নুরু’র অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে। তিনি এক হিন্দু নারীকে চাকুরি ও বিয়ের প্রলোভন সাথে পরকীয়া প্রেম ও হেনস্থা করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চারটি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত। নির্বাচনে তামিম-মামুন ও নুরু-হুমায়ুন দু’টি প্যানেলের মধ্যে এবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। হিন্দু নারীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত এবং বিভিন্ন অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নুরু-হুমায়ুন পরিষদের সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম ওরফে নুরু’র বিরুদ্ধে একাধিক অসামাজিক কর্মাকন্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নুরু-হুমায়ুন দু’টি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম নুরু গত ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর চাকুরির জন্য জব লেটার ও পর্বর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক হিন্দু নারী স্নিগ্ধা রায় (ভুক্তভোগীর অনুরোধে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হলো)-এর সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন। বিয়ের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন তার সাথে চুটিয়ে প্রেম করেন। একপর্যায়ে ওই মহিলাকে দিয়ে তার স্বামীকে ডিভোর্স করারও বন্দোবস্ত করেন তিনি। ঘটনা জানাজানি হলে ছোট শিশুসহ ভাড়া বাড়ি থেকে সেই মহিলাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেন নুরু-হুমায়ুন পরিষদের সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম। ওই সময় সাধারন সম্পাদক  সাংগঠনিক সম্পপাদক ও বর্তমান সা. সম্পাদক পদপ্রার্থী হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী নুরু ও তার সেই প্রেমিকাকে নানাভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ যোগান। তিনি মাঝে মাঝে নুরুর সেই প্রেমিকাকে বাজার সদাইও করে দিতেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে নিউ ইয়র্ক থেকে বারবার মহিলা শিল্পী এনে নুরুর সাথে ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ করে দিতেন হুমায়ুন। মোদ্দা কথা অভিসারের জন্য সে নুরুকে নিয়মিত মেয়ে সরবরাহ করতেন বলেও জানা যায়।
তিনি গত ২০১১ সালে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্যাস স্টেশনসহ গ্রোসারির দোকানে অবৈধভাবে ব্লু-ফিল্মের (নীল ছবি) বিক্রির সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।

কানেকটিকাটের ক্রমওয়েল পুলিশের কাছে দাখিলকৃত অভিযোগ

২০১৭ সালের ২৬ আগষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর আয়োজনে মেরিডেন শহরের থমাস এডিসন মিডল স্কুলের মিলনায়তনে বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের সাহাযার্থে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেন বাক-এর নবনির্বাচিত কামাল-হুমায়ুন পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসেবে আনা হয়েছিল প্রখ্যাত গণশিল্পী ফকির আলমগীর এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভীন। অনুষ্ঠনে মোটা অংকের তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছিল। উক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি নুরুল আলম নুরু অনুষ্ঠানে আদায়কৃত অর্থ তার বাড়িতে নিয়ে যান। গত ৫ বছরে সেই অর্থ বন্যাদুর্গতদের জন্য দেশে না পাঠিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়,  সেই অনুষ্ঠানে রিজিয়া পারভীনকে দিয়ে ‘দামাদাম মাস্ত কালান্দার’ উর্দু গান গাইয়ে কানেকটিকাটে বাংলা সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চালুও চালু করেন নুরু-হুমায়ুন গং।

স্নিগ্ধার বয়ানে নুরু’র সাথে প্রেমলীলার চমকপ্রদ কাহিনী:

আমেরিকার ছাত্র জীবনে স্নিগ্ধা রায়ের প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম বাংলাদেশির সাথে বিয়ে হয়েছিলো। স্নিগ্ধার প্রথম স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়াতে দুই পরিবারের সমঝোতায় তাদের ডিভোর্স হয়। প্রথম সংসারে স্নিগ্ধার একটি মেয়ে সন্তান আছে। মেয়েকে নিয়ে অল্পবয়সী, সুন্দরী, মেধাবী স্নিগ্ধা প্রচন্ড সংগ্রাম করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাচেলর্স, পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করে একটি পেশাগত উপাধি অর্জন করেন। অতঃপর স্নিগ্ধাকে পারিবারিক ভাবে আবারো বিয়ে দেয়া হয় একজন কানাডিয়ান নাগরিকের সাথে। বিয়ের পর দ্বতীয় সংসার স্নিগ্ধার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। স্নিগ্ধার নতুন শশুর বাড়িতে স্নিগ্ধার মেয়েকে একটি মুসলিম বাবার সন্তান হিসেবে হেয় করা হতো। এসব কারণে স্নিগ্ধার সদ্য কিশোরী মেয়েটি লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে ওঠে।
স্নিগ্ধা তখন দিশেহারা হয়ে দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে আমেরিকায় থেকে স্বাবলম্বী হয়ে দুই সন্তানের লালন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু স্নিগ্ধার স্বামী স্নিগ্ধার পুত্রকে কানাডায় নিয়ে যাবার জন্যে বিভিন্ন আইনি পাঁয়তারা শুরু করেন। নিউ ইয়র্ক এর কাছেই সামর্থ অনুযায়ী বাসা ভাড়া করে বাবা মা এর সান্নিধ্যে থেকে সন্তানদের লালন পালন করার জন্যে কানেকটিকাট স্টেট এর প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়েন স্নিগ্ধা।
সে সময়ে গুগল-এর মাধ্যমে তৎকালীন বাক এর সন্ধান পান স্নিগ্ধা।গুগল এ দেয়া ফোন নম্বর এ কল করলে মশিউর রহমান কামাল এর সাথে যোগাযোগ হয় স্নিগ্ধার। স্নিগ্ধাকে বাক এর সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করার জন্যে কানেকটিকাটে আমন্ত্রণ জানান। দুই সন্তানকে নিয়ে ২০১৮ সালের এক সন্ধ্যায় প্রথম বারের মতো কানেকটিকাট আসেন স্নিগ্ধা। মশিউর রহমান কামাল স্নিগ্ধাকে বাক-এর সহ-সভাপতি নুরুল আলম ওরফে নুরু’র সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

চাকুরির প্রস্তাবপত্র

স্নিগ্ধা ও নুরুল আলম দু’জনেরই জন্ম বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। স্নিগ্ধা তার পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করার সুবিদার্থে কামাল ও নুরুর কাছে নিজের পাসপোর্ট ও রেজিউমি হস্তান্তর করেন। নুরুল আলম তৎক্ষণাৎ স্নিগ্ধাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন এবং একই দিনে স্নিগ্ধাকে মিডেলটাউন ফ্যামিলি কোর্টে বাচ্চার কাস্টডি ফাইল করার ব্যাপারে সব রকমের ব্যবস্থা করে দেন। নুরুল আলম তার মিডলটাউনের বাসায় স্নিগ্ধার থাকার ব্যবস্থা করেন। নুরুল আলমের উদার সাহায্য পেয়ে স্নিগ্ধা নুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় ঋণী হয়ে যান। বাক-এর সব সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্নিগ্ধা কানেকটিকাট থেকে নিউ ইয়র্কে ফিরে যান এবং চাকরি খুঁজে নিয়ে পরবর্তীতে মিডলটা্নে স্থায়ী ভাবে ফিরে আসার পরিকল্পনা নেন।
নিউ ইয়র্ক ফিরে যাবার পর নুরুল আলম স্নিগ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বলেন তিনি স্নিগ্ধাকে সব রকমের সাহায্য দিয়ে যাবেন। তিনি মসজিদ বানান। স্নিগ্ধার শিক্ষাগত যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি স্নিগ্ধাকে কানেকটিকাটের সিপিএ উদয় প্যাটেলের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার কথা বলেন।
স্নিগ্ধা নিউ ইয়র্ক সিটি হিউমান রিসৌর্স অফিসকে অবহিত করেন যে সে কানেকটিকাট এ একটি বাসা পেয়েছে সেই মুহূর্তে জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত স্নিগ্ধা বেঁচে থাকার নতুন অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। কানেকটিকাটে আসার পর স্নিগ্ধাকে নুরু বলেন, বাক-এর অন্য কোনো সদস্যদের সাথে যোগাযোগ না রাখতে। কারণ তারা স্নিগ্ধাকে কোনো ভাবেই কোনো সাহায্য করতে পারবেনা। যা করার তাকেই করতে হবে।অন্যান্য সদস্যরা নুরুর স্ত্রীকে স্নিগ্ধা ও নুরু ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে রাগান্বিত করে তুলবে। স্নিগ্ধার জন্যে নুরু তখন একজন অভিভাবক তথা ফেরেস্তার মতো, তাই নুরুর কথাকে স্নিগ্ধা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন
এইভাবে শ্রদ্ধা আন্তরিকতার আবহে স্নিগ্ধা ও নুরুর মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্ক। জীবনের অনেক সংগ্রাম পার হয়ে নুরুর আশ্রয়ে স্নিগ্ধা নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে আত্মসমর্পণ করেন। নুরু স্নিগ্ধাকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে উদ্ভুদ্ধ করেন এবং ধর্মানুযায়ী বিয়ে করে তার সন্তানদের জীবন গঠনে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। স্নিগ্ধা যখন মা বাবাকে দেখতে নিউ ইয়র্কে যেতন তখন নুরু স্নিগ্ধাকে ট্রেন স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে আসতো। স্বামী স্ত্রীর মতো স্নিগ্ধা ও তার পুত্রকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে রাতের খাবার খেতো। স্নিগ্ধাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতো। স্নিগ্ধা ইতিমধ্যে দুই এক জায়গায় চাকুরির অফার পেলেও নুরু স্নিগ্ধাকে গাড়ি কিনে না দিয়ে নিজেই বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত।
এদিকে কোর্টের ফিস, সংসার খরচ, হেলথ ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বার বার নুরুর কাছে স্নিগ্ধাকে নির্ভর করতে হতো। উদয় প্যাটেল স্নিগ্ধাকে ইন্টারভিউ করার সাথে সাথেই চাকরি তে নিয়োগ দেন। ডে কেয়ারে স্নিগ্ধার ছেলেকে ভর্তি করিয়ে আসা যাওয়া করতো। কিন্তু দুধের শিশু কিছুই খেতে পারতোনা। গাড়ির অভাবে উবার নিয়ে কাজে যাওয়া আসা খুবই ব্যয় বহুল হয়ে পড়ছিলো। টাকা চাইলে মাঝে মাঝে নুরু উধাও হয়ে যেত। অনেক সময় প্রচন্ড তুষারপাতের মাঝে একা একা ছেলেকে নিয়ে দুধ কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে স্নিগ্ধাকে বাইরে যেতে হতো। হাসপাতাল ও কোর্ট থেকে নিয়োগ করা সোশ্যাল ওয়ার্কাররা বার বার বাসায় এসে দেখতে চাইতো স্নিগ্ধার ছেলে কি অবস্থায় আছে। নুরু স্নিগ্ধাকে মিডলটাউনের বাসায় কোন ফার্নিচার ছাড়া অত্যন্ত অবাস যোগ্য অবস্থানে রাখেন।এমনকি সেই বাসায় একটি টিভিও ছিলো না। ছিলো না কোনো আসবাবপত্র থালা বাটি। প্রথমবার ভিসিট-এ বাক এর সেক্রেটারি আজিজের তাৎক্ষণিক ভাবে দেয়া একটি অপরিচ্ছন্ন ম্যাট্রেসে স্নিগ্ধা ও তার ছেলে ঘুমাতো।
আর এসব নিয়ে কথা উঠলে ‘আজ করবো কাল করবো’ এইভাবে নুরু এড়িয়ে যেত। নুরুকে হারানোর ভয়ে স্নিগ্ধা বেশির ভাগ সময়ে তার সব কথা মেনে নিতো।
এদিকে, স্নিগ্ধার স্বামী কোর্ট ডেট ছেলের কাস্টডির ব্যাপারে সাড়া দিতে গিয়ে স্নিগ্ধার সাথে নুরুল আলমের সম্পর্কের ব্যাপারে জেনে ফেলে। শেষ পর্যন্ত স্বামীর সাথে ডিভোর্স-এ সম্মতি দেন স্নিগ্ধা।পাশাপাশি নুরুকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে নেন। এভাবে নুরুই হয়ে ওঠে স্নিগ্ধার ধ্যান জ্ঞান। মিডলটাউনে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে এক মুহূর্তে জন্যেও শান্তি পেতেন না স্নিগ্ধা। নুরুকে রান্না করে খাওয়ানো তার মন রক্ষা করা, সন্তানকে দেখা শোনা করা মিডলটাউনের রাসেল লাইব্রেরিতে ঘুরে বেড়ানো, এইভাবে একটি জীবন তৈরী করেন স্নিগ্ধা। এদিকে টাকা পয়সা নিয়ে নুরু মাঝে মাঝে বিরক্ত হলে স্নিগ্ধা চাকরি করার জন্যে মনোযোগী হয়ে উঠেন। কাজের ব্যস্ততায় নুরু যখন আসতে পারতো না তখন সহজাত স্ত্রীর মতো ব্যাকুল হয়ে উঠতো স্নিগ্ধা। একবার নুরুকে খুঁজতে বের হয়ে ব্রিজপোর্ট এর মসজিদে হুমায়ুন চৌধুরীর সাথে পরিচয় হয় স্নিগ্ধার হুমায়ুন নুরু এবং স্নিগ্ধার মাঝে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিন্তু অবিবাহিত সন্তান সন্ততিহীন হুমায়ুন নুরু এবং স্নিগ্ধার সম্পর্ক নিয়ে প্রচন্ড ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। সে নুরুকে নানা রকমের মিথ্যা কথা বলে নুরুর মনে স্নিগ্ধা সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি করে। এদিকে স্নিগ্ধার কাছে নুরুকে নিয়ে একই ভাবে নানা রকম নেতিবাচক কথা বলতো হুমায়ুন। বুদ্ধিমতী স্নিগ্ধা হুমায়ুনের ঈর্ষা টের পেয়ে হুমায়ুনকে ইমেইলের মাধ্যমে নুরু এবং তার মধ্যে আর কোনো মাথা না ঘামানোর জন্যে অনুরোধ করেন।
স্নিগ্ধা লক্ষ্য করেন নুরু ও স্নিগ্ধার গৃহকর্মী জিনা কিংবা কর্মচারি রাজীব নুরুর খেয়ে ও পরে ঠিকমতো কাজ কর্ম করতো না। নুরু স্নিগ্ধাকে বলেন, সে অত্যন্ত স্ট্রেসের মধ্যে আছে। যে কোনো সময় হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি হবে। স্নিগ্ধা যেন কানাডা গিয়ে ডিভোর্সে বিষয় চূড়ান্ত করেন এবং স্নিগ্ধা ফিরে আসলে নুরু অন্য কোথাও স্নিগ্ধাকে রেখে স্ত্রীর মতো তার রক্ষণা বেক্ষন করবেন।
প্রচন্ড অনিচ্ছা সত্ত্বেও নুরুর কল্যানেই ছেলেকে নিয়ে নুরুর কেটে দেয়া টিকেট নিয়ে অল্প কিছুদিনের জন্যে কানাডা যান স্নিগ্ধা। কানাডা থেকে প্রেম ভালোবাসার কথা আদান প্রদানসহ যোগাযোগ হতো নুরু ও স্নিগ্ধার নুরু স্নিগ্ধাকে টাকা পাঠাতো কানাডাতে, কিন্তু হঠাৎ করে আবারো স্নিগ্ধার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেন নুরু।
স্নিগ্ধা ধারণা করেন হুমায়ুন জিনা ও অন্যান্যদের কু-পরামর্শে আবারো স্নিগ্ধাকে নিয়ে সন্দেহে ভুগছে নুরু। তৎক্ষণাৎ ডিভোর্স এর বিষয় পাকা করে আমেরিকায় ফিরে আসেন স্নিগ্ধা। জেএফকে থেকে ক্রমান্বয়ে কল দেন নুরুকে। কোথাও যাবার জায়গা নেই। ইতোমধ্যে নুরু বাসার তালা বদলে ফেলেন। হয়েছে। নেই চাকরি, নেই কোনো পারিবারিক সাপোর্ট, মৃতপ্রায় হয়ে উঠেন স্নিগ্ধা। কানেকটিকাটে তখনও বাচ্চার হেলথ ইন্সুরেন্স অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাননি। এমনকি কাপড় চোপড় ডায়াপার দিশেহারা স্নিগ্ধা সাহায্যের আসায় ইন্টারনেট থেকে নম্বর খুঁজে বাক-এর অন্য কোনো সদস্যকে যোগাযোগ করতে চাইলে এবার ফোন ধরেন নারী নেত্রী রওনাক আফরোজ।
স্নিগ্ধাকে মিডলটাউনের আনোয়ার মন্ডলের কাছে সাহায্য চাইতে বলেন রওনাক। আনোয়ার মন্ডলের স্ত্রী ও কন্যাদের সাথে নিয়ে এক দিনের জন্যে আশ্রয় দেন স্নিগ্ধাকে। তিনি বলেন বেশি দিন যদি স্নিগ্ধা তার বাসায় থাকে তাহলে নুরু ভাবতে পারে আনোয়ার মন্ডল তার সাথে সাংগঠনিক সমস্যার জের তুলছে তাই স্নিগ্ধাকে বলেন নিউ ইয়র্কে দুই একদিন অপেক্ষা করতে।
আনোয়ার মন্ডল ফোনে বিস্তারিত শুনে কমিউনিটিতে এ সম্পর্কের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নুরুল আলম, নিউ ইয়র্কের আব্দুল হাই জিয়ার সাথে যোগাযোগ করেন স্নিগ্ধাকে দেখা করার জন্যে অনুরোধ করেন। জিয়ার সামনে নুরু আবারো প্রতিশ্রুতি দেন স্নিগ্ধা ও তার ছেলের রক্ষণাবেক্ষণের এবং আপাতত নিউ ইয়র্ক এ থাকার নির্দেশ দেন। স্নিগ্ধাকে তিনি বলেন, যেন সে কানেকটিকাটে সবার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে এবং সবাইকে বলে যে স্নিগ্ধার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
নুরুকে ফিরে পেতে স্নিগ্ধা তখন যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আবারো বাবার আদরে ভালোবাসায় স্নিগ্ধাকে ছেলের জন্মদিন করার টাকা দেন নুরু। আর ঠিক তার একদিন পর আবারো যোগাযোগ বন্ধ করেন। পাগল প্রায় স্নিগ্ধা নুরুর ফোন না পেয়ে বার বার কল করতে থাকলে নুরু স্নিগ্ধাকে তার উকিল মারফত একটি চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করতে বলেন। শুধু তাই না নুরু স্নিগ্ধাকে ব্ল্যাকমেইলিং এর অপবাদ দেন। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে যান স্নিগ্ধা। তাৎক্ষণিক চিকিৎসার পর কারো কোনো কথা না শুনে পাগলের মতো ছুটে আসেন কানেকটিকাটে। সুপার ৮ মোটেলে উঠে পাগলের মতো বাংলাদেশি কমুনিউটির সকলকে কল দিয়ে নুরুকে খুঁজতে থাকেন স্নিগ্ধা। বার বার কান্নায় ব্রেক ডাউন হচ্ছিলো তার। অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে ৯১১ কল করে সুপার ৮-এর ম্যানেজার। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরদিন সব জানাবেন বলেন স্নিগ্ধা। তার মামাতো বোন বলেন, স্নিগ্ধা না জানালে সে আসবে পুলিশের কাছে। তাই যাবতীয় ইমেইল টেক্সট মেসেজ সহ বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন পুলিশের কাছে স্নিগ্ধা। এসব তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ক্রমওয়েল পুলিশ একটি জেনারেল ডাইরি নথিবদ্ধ করেন। পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই স্নিগ্ধাকে অর্থনৈতিক ভাবে ভরণ পোষণ করতেন নুরু। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রক্ষণাবেক্ষণের তাই যোগাযোগ করতেন স্নিগ্ধা।
এই প্রতিবেদনটি লেখার প্রাক্কালে কথা ওঠে যে স্নীগ্ধা নুরুর সাথে সম্পর্ক নেই এই কথাটি লিখে দিয়েছে। নুরুর পাঠানো ব্ল্যাকমেইলিং অপবাদের উকিল নোটিশ এর পরেই স্নিগ্ধা ও নুরুর মাঝে যাবতীয় লেখালেখি সব কিছু দীর্ঘ সময় নিয়ে পর্যবেক্ষন করে ক্রমওয়েল পুলিশ নথিবদ্ধ করেন যে, নুরু ও স্নিগ্ধার একটি পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠছিল।
পুলিশের সার্টিফাইড ডকুমেন্টে এই স্টেটমেন্ট নথিবদ্ধ হবার পর মানসিক শান্তি ফিরে পান স্নিগ্ধা। ভালোবেসে ফেলেন নুরুকে তিনি ব্ল্যাক মেইল করতে না। জীবনযুদ্ধে পাশে পেতেই নুরুর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পন করেন তিনি। কমুনিউটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে নুরুকে মামলা করার জন্যে স্নিগ্ধার কাছে অনুরোধ করা হয়, কিন্তু নিজেকে সামলে কাজ করতে চান আত্মপ্রত্যয়ী স্নিগ্ধা।
জ্যাকসন হাইটস অল্প সময়ের মধ্যেই স্নিগ্ধার কাজ ও মেধায় অসংখ্য ব্যবসায়ী বুদ্ধিজীবি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠেন স্নিগ্ধা। দুই একবার নুরুকে যোগাযোগ করে সারা না পেয়ে স্নিগ্ধা মনে করেন নিজের মতো করে বাঁচবেন তিনি। কানেকটিকাটে থাকবেন আর বড় করবেন সন্তানকে। হৃদয়ের দরজা খোলা থাকবে নুরুর জন্যে।
বরিশালের পিঠা মেলায় প্রথম বাংলাদেশি মহিলা সিপিএ হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্যে অংশগ্রহণ করতে আসলে দেখা হয়ে যায় নুরুর সাথে। কমিউনিটিতে ওঠে গুঞ্জন, নিজেকে শক্ত রেখে অনুষ্ঠান অংশ নেন স্নিগ্ধা। নিজের আত্মমর্যাদা কে তুলে ধরেন।
এই নিয়ে এই প্রতিবেদক নিজের ফেসবূক পেজ এ স্টেটাস দিলে হিংসা ও ক্রোধে অন্ধ হয়ে হুমায়ুন চৌধুরী কল দেয় স্নিগ্ধাকে প্রচন্ড উগ্র মেজাজ নিয়ে তাকে যা তা বলে অপমান করেন। অথচ দুই দিন আগেই স্নিগ্ধাকে সে টেক্সট করে জানিয়েছে ‘আপা আপনি অনেক ভালো একজন মানুষ’ কিন্তু নুরুর সামনে স্নিগ্ধাকে নানা ভাবে ছোট করে দু’জনের সম্পর্কে ফাটল ধরানোই হুমায়ুন এর কাজ ছিলো।
হুমায়ুন চৌধুরী নুরুর ছত্রছায়াতে থেকে নিয়ে পরিচয় গড়তে চায়। বিভিন্ন সময়ে ভুলভাল বাংলা ও ইংরেজি উচ্চারণে শব্দে নানারকম হিন্দি গান ও নাচের আসর বসিয়ে নুরুকে ব্যস্ত রাখে হুমায়ুন। শিক্ষিত স্নিগ্ধার সংস্পর্শে থাকলে নুরু এইসব কাজে আর যুক্ত হবেনা। সম্ভবত এই ভয়ে এবং নিজের অবিবাহিত সন্তান বিহীন সংসার বিহীন জীবনের কারণে ছন্নছাড়া থাকার কারণে নুরুকে আগলে রাখেন হুমায়ুন।
হুমায়ুনের আসল রূপ অনেক আগে থেকেই জানে স্নিগ্ধা তাই দেরি না করে ৯১১ এ কল দিয়ে নিউ ইয়র্কে হুমায়ুনের কল সম্পর্কে অবহিত করেন পুলিশ কে। পুলিশ প্রাক্তন ঘটনা বিবরণ নিয়ে স্নিগ্ধাকে উপদেশ দেন নুরুকে অবহিত করতে যেন প্রাক্তন ঘটনাবলীর জের ধরে নুরুর অ্যাসোসিয়েট হুমায়ুন বা অন্য কেউ হুমকি না দেয় স্নিগ্ধাকে। নুরু নিজের আইনজীবি হেক্টর রোমানকে দিয়ে উকিল নোটিস পাঠান স্নিগ্ধা নুরুর কাছে।একজন বাংলাদেশি নারী হিসেবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ এর জন্যে কানেকটিকাটে যে কোনো বাংলাদেশি অনুষ্ঠানে যেতে পারেন স্নিগ্ধা।
অতঃপর প্রচন্ড সাফল্যের সাথে নিউ ইয়র্ক এবং কানেকটিকাটে বিভন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সরব যোগাযোগে মাধ্যমে এবং নিজ মেধা ও পরিশ্রম এর মাধ্যমে একজন চৌকষ সিপিএ হিসেবে সরকারি বেসরকারি চাকরিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন স্নিগ্ধা। করণাকালীন সময়ে ভয়েস অফ আমেরিকা, টিবিএন, টাইম টেলিভশনসহ গণমাধ্যমে উপস্থিত থেকে নিজের সুখ্যাতি প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
একদিন নুরুল আলম এর নারী সঙ্গের লোভ, খামখেয়ালি পনা, দায়িত্বহীনতা, হুট্ করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে প্রেমের জালে জড়িয়ে আবার হুট্ করে এক কাপড়ে পথে ছুড়ে ফেলে দেওয়া, এই সব কিছুর জন্যে এমনকি মৃত্যুও হতে পারতো স্নিগ্ধার। গান বাজনা করা কিছু সস্তা শিল্পী সাপ্লাই দিয়ে এবং বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উঠতি কিছু নেতা নেত্রীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে হুমায়ুন-নুরুকে কন্ট্রোল করে। অথচ হুমায়ুন এর ঠিকানা কিংবা পেশাগত কোনো পরিচয় নেই, তার বিয়ে নিয়ে রয়েছে অনেক রকম কুয়াশা। ব্যক্তিগত জীবন ততক্ষনই ব্যক্তিগত যখন একজন ব্যক্তির দ্বারা সমাজের বাকিরা প্রভাবিত হয়না।কিন্তু সমাজের নেতা হতে হলে তাকে স্বচ্ছ স্বাভাবিক পরিচয় বহন করতে হয়।
শুধু সম্পর্কের খাতিরেই নয়, একজন বাবা ও সামাজিক নেতা হিসেবে এইভাবে স্নিগ্ধাকে নিগৃহীত করে কেন তাকে ও তার সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলো নুরু?
সমাজের অভিভাবকের স্থানে থেকে আশার আলো দিয়ে বুকে টেনে নিয়ে প্রয়োজন শেষে ছুড়ে ফেলে দেওয়া আর অপবাদ দিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে একটি প্রতিভাবান মা ও তার সন্তানদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এটাই কি বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাটে নেতাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
বিভিন্ন সভা সমিতিতে নাচ গানের আসর করা উগ্র মেজাজি পরের ব্যাপারে নাক গলিয়ে নিজের হীনমন্যতার পরিচয় দানকারী হুমায়ুন কি আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসীদের কে প্রতিনিধিত্ব করবে?
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে কনসাল ও অন্যান্য বাংলাদেশি সরকারি নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হুমায়ু্নের শিক্ষাগত যোগ্যতা এতটাই কম যে সে বহু অনুষ্ঠানে ভুল বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলে হাসির খোরাক হয়। হুমায়ুনের মতো চালচুলা বিহীন একটি ছেলের কথায় নুরু একটি শিক্ষিত মা ও তার সন্তানদের মৃত্যুর কারণ হতে পারতো। ব্যক্তিগত ইগো এবং আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এর কারণে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতাৎর্থ করার জন্যে বাংলাদেশি আমেরিকানদের মান সম্মানকে ভুলুন্ঠিত করে নির্বাচন করতে নেমেছে নুরু। নুরুল আল্মের কথা মতো তিনি যদি স্নিগ্ধার দ্বারা বিরক্ত হয়ে থাকেন, তবে কেন ‘আমাদের চট্টগ্রাম অব কানেকটিকাট-এর ফেইসবুক গ্রুপে স্নিগ্ধা যুক্ত আছে এবং সক্রিয় ভাবে সবসময় বিভিন্ন কমিউনিটি নিউজ, অর্থনৈতিক সমাচার প্রচার করেন। দিনের পর দিন একই গ্রুপ এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরু ও তার স্ত্রী যুক্ত কেনই বা নিজেদের সদস্য পদ অব্যাহত রেখেছে? অর্থাৎ স্নিগ্ধার কোনো আচরণই নুরুর জন্যে ক্ষতিকর না। শুধুমাত্র ভালোবাসার সম্পর্কের কথা প্রকাশ না হবার জন্যেই নুরু স্নিগ্ধা কে হেনস্থা করেছেন।

এদিকে, স্নিগ্ধার (ছদ্মনাম) বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নুরুল আলম নুরুর সাথে এ প্রতিনিধির কথা হয়েছে। স্নিগ্ধার সাথে তার সাথে কি সম্পর্ক জানতে চাওয়া হলে সে ভীষন ব্যস্ততার কথা বলে বিস্তারিত জানাতে অসম্মতি প্রদান করেন। আবারও তাকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা রাগের সুরে বলে তার সাথে কোন সম্পর্ক ছিলো না। সাহায্য চাইতে এসেছিলো ছিলো তাকে সাহায্য করেছেন। কি সাহায্য করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি খুব ব্যস্ত তাই এ বিষয়ে আর কোন কথা বলতে চান না। পরে ফোন করে জানাবেন, কিন্তু আর ফোন করেননি। পুর্ব প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রসেঙ্গে তিনি বলেন ব্রিজপোর্টের মেজ্জানে তার সাথে এমন কোন মেয়ের সাক্ষাৎ হয়নি। অথচ রিপোর্টে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা সম্পুর্ণ মিথ্যা।

বিপি।এসএম