১১ ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তি ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট উত্তপ্ত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কৃষি প্রশিক্ষণ ইউন্সিটিউটে (এটিআই) ৩ ছাত্রকে বদলী ও হলে থাকা ৮ ছাত্রের সিট বাতিলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ছাত্রছাত্রীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানাগাছে, ২০২০ সালে ছাত্রদের হোস্টেলে রঙ করার কাজ করানো হয় ঠিকাদারের মাধ্যমে। এসময় ছাত্রদের ব্যক্তিগত বাক্স ভেঙে টাকা চুরিসহ জিনিসপত্র তসরুপ করে রঙ মিস্ত্রিরা। ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে শহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে তদন্তসহ মিমাংশার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এটিআই’;ও বন্ধ হয়ে যায়।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও এটিআইয়ের হোস্টেল বন্ধ রাখা হয়। হোস্টেলে থাকা ছাত্ররা এই বিষয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের অবিভাবকদের কাছে অভিযোগ করা হয়। ছাত্ররা প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশ উপেক্ষা করে হোস্টেলের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র হাসিবুল হাসান শান্ত, শাওন চৌধুরী ও সোহেল নামের ৩ ছাত্রকে টিসি দেওয়া হয়। এছাড়া সপ্তম সেমিস্টারের সোয়েব আক্তার, আরাফাত সাজিম, ইমরান খান, পঞ্চম সেমিস্টারের শীতল, শিশির, শাবাব, রিংকু ও অনিকের হোস্টেলের ছিট বাতিল করে নোটিশ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য হোস্টেলে রঙ করার সময় চুরি হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধার না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এটিআইয়ের অধ্যক্ষ বিনয় সাহা জানান, সরকারের নির্দেশে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রদের আবাসন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার চালু হয়েছে। সঠিক সময়ে হোস্টেল খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ছাত্ররা নাছোড়বান্দা হয়ে হোস্টেলের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।

তাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেছে, অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক কর্মচারীরা এই প্রতিষ্ঠানে মাদকের আড্ডা বসায়। ক্যাম্পাসে উৎপাদিত কৃষি পণ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম করা হলেও কোন তদন্ত হয় না। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ বলেন, ছাত্রদের হোস্টেল খুলে দেওয়ার দাবিটা যৌক্তিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে সঠিক বিচার করেনি কর্তৃপক্ষ।

বিপি/কেজে