আট বছরের শিশুর দেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তে পাঠাল পুলিশ

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
৩০ মে, ২০১৮

বাংলাপ্রেস অনলাইন: জলে ডুবে মারা গিয়েছে মেয়ে। প্রথমে তেমনটাই মনে হয়েছিল পরিবারের লোকেদের। আট বছরের শিশুকন্যার দেহটি কবরও দিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু, গ্রামেরই এক ব্যক্তি সপরিরারে নিখোঁজ হওয়ার পরই সন্দেহ দানা বাঁধে। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার পরিবারে লোকেরা। ১৮ দিন পর কবর থেকে দেহটি তুলে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সাঁইথিয়ায়।
বীরভূমের সাঁইথিয়ার বহড়াপুর গ্রামে বাড়ি তহসিনা খাতুনের। গত ১২ মে স্কুল থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে গ্রামেরই পুকুরে স্নান করতে গিয়েছিল সে। কিন্তু, আর বাড়ি ফেরেনি। পুকুরে বছর আটেকের ওই বালিকার দেহ ভেসে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। তখন পরিবারের লোকেদের কোনও সন্দেহ হয়নি। তাঁরা ভেবেছিলেন, পুকুরে স্নান করতে গিয়ে ডুবে গিয়েছে তহসিনা। প্রথমাফিক দেহ কবরও দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, সেদিন তহসিনার সঙ্গে তার যে বন্ধুরা ওই পুকুরে স্নান করতে গিয়েছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলার পরই মত পালটে যায় বাবা জহুর আলমের। তিনি জানতে পারেন, ঘটনার দিন তহসিনা ও তার বন্ধুদের পুকুর থেকে উঠে যেতে বলেছিল সিরাজ মীর নামে এক ব্যক্তি। জল থেকে উঠতে না চাইলে তহসিনা ও তার বন্ধুদের মারধর ও হুমকি দেয় সিরাজ। ভয়ে বাকিরা বাড়ি চলে গেলেও, তহসিনার দেহ ভেসে ওঠে পুকুরে। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর থেকে সপরিবারে উধাও সিরাজ। রবিবার সাইঁথিয়া থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাবা জহুর আলম। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে তহসিনা খাতুনের দেহ তুলে ময়নাতদন্তে পাঠাল সাইঁথিয়া থানার পুলিশ। মৃত্যুর ঠিক ১৮ দিন পর।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিরাজ মীরের বাড়ি সাইঁথিয়ার বহড়াপুর গ্রামেই। পেশা চাষ আবাদ হলেও, গ্রামে এক চপের দোকান চালাত সে। মৃতার মা সুফিয়া বিবির অভিযোগ, চপের লোভ দেখিয়ে মাঝেমধ্যে তহসিনা ডাকত সিরাজ। বলত, ‘তোকে মেরেই ফেলব’। তিনি বলেন, ‘সিরাজ যে সত্যি সত্যি আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে, ভাবতেই পারিনি।’ আর তহসিনা খাতুনের বাবা জহুর আলমের বক্তব্য, ‘মেয়ের হারিয়ে আমার মাথার ঠিক ছিল না। ভাবতেই পারিনি, মেয়েকে কেউ খুন করতে পারে। কিন্তু, এখন সিরাজের নিখোঁজ হওয়া ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা আমি নিশ্চিত, মেয়েকে খুন করে পুকুরে ফেলা দেওয়া হয়েছে।’ মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে ছোট্ট তহসিনার দেহ কবর থেকে তোলে সাইঁথিয়া থানার পুলিশ। দেহটি পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। এদিন কবর খোঁড়ার সময়ে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাটের বিডিও অতনু ঝুঁরিও।