রুহিয়া টাঙ্গন নদীতে চলছে মাছ ধরা উৎসব

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১ নভেম্বর, ২০২২

দুলাল হক,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন টাঙ্গন ব্যারেজের এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা উৎসব।বিভিন্ন জেলা হতে হাজার হাজার মাছ শিকারী এসেছেন মাছ শিকারে।আবার কেউবা এসেছেন জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে নিয়ে যেতে।এ সময় মাছ শিকারী ও ক্রেতা বিক্রেতাদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে রুহিয়া থানাধীন ১৪নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের চাপাতি গ্রামে অবস্থিত টাঙ্গন ব্যারেজ।এটি মূলত: শুস্ক মওসুমে জমিতে সেচ প্রদানের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মান করে।প্রতি বছর ভরা মওসুমে মৎস্য বিভাগের আওতায় এখানকার প্লাবন ভ’মিতে সরকারিভাবে মাছ অবমুক্ত করা হয়।৩ মাস পর মাছ বড় হলে নভেম্বরের শুরুতে ব্যারেজের গেট খুলে দিলে এখানে শুরু হয় মাছ ধরা উৎসব।

এদিকে সোমবার রাতে প্রতি বছরের ন্যায় টাঙ্গন ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয় এবং সর্ব সাধারণের জন্য মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় সদর উপজেলার চাপাতি, আটোয়ারী উপজেলার সাতপাখি গ্রামের বিস্তির্ন এলাকার পানি নেমে গেলে কম পানিতে চলে মাছ শিকারের মহোৎসব।

ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় দিনাজপুর সহ নীলফামারী জেলার মাছ শিকারীরা এখানে এসে তাবু গাঁড়ে করছে মাছ শিকার।সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিকারীরা দেশীয় তৈরী ফিকা ও লাফি জাল সহ বিভিন্ন বাহারী জাতের জাল দিয়ে করছে মাছ শিকার ।এজন্য কেউবা কলাগাছের ভেলা তৈরী করে বিস্তির্ন এলাকায় মাছ শিকার করছে ।মাছ ধরা উৎসবে প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে।

এদিকে শহরের চাইতে এখানকার মাছের দাম বেশি বলে জানালেন বেশিরভাগ ক্রেতা।তারা জানান,এখানে প্রতি কেজি টেংরা,গচি ,শিং ,টনা মাছ প্রতি কেজি ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।আর শোল ও রুই কাতল মাছ চাওয়া হচ্ছে ৮শ টাকা।প্রতিকেজি পুটি মাছ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।

একাধিক মাছ শিকারীদের অভিযোগ,স্থানীয়রা কারেন্ট জাল ও ঘুপসি জাল ব্যবহার করে আগেই সব মাছ ধরে বিক্রি করে দেওয়ায় এবার মাছের শূন্যতা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য,১৯৯০ সালে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার ৪৪ দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে শুস্ক মৌসুমে গম, বোরো, সরিষা ও আলু সম্পুরক সেচ প্রদানের উদ্দেশ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে পাউবো ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চাপাতি গ্রামে টাংগন নদীর ওপর এই ব্যারেজ স্থাপন করে।

বিপি>আর এল