স্বৈরাচারের অবসান ঘটাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে দেশের মানুষ: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১০ নভেম্বর, ২০২২

ইমা এলিস: যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের দুঃশাসন থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সকলেই ঐক্যবদ্ধ হোন। স্বৈরাচারের অবসান ঘটাতে দেশের আপামর জনতাও আজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
গত মঙ্গবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে জুইশ সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশাল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দিয়ে দেশ ও জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কন্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, গেষ্ট অফ অনার ছিলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এই সমাবেশে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান জিল্লু।
গিয়াস আহমেদের সভাপতিত্বে এবং মিজানুর রহমান মিল্টন, কাজী আজম ও জসীম উদ্দীন ভুইয়ার নানা পর্যায়ের সন্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং অংগ সংগঠনসমূহের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ব্য হয়ে বাংলাদেশের চলমান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। বিভাজন এবং অভ্যন্তরীন মতপার্থক্য ভুলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করেন।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে দেশের টার্নিং পয়েন্ট উল্লেখ করে মির্জা আলমগীর বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সেনা অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যখন চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তখন সিপাহি-জনতা মিলিত ঐক্যের এই বিপ্লব দেশ ও জাতিকে অনাকাক্সিক্ষত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়েছিল। অভূতপূর্ব সেই বিপ্লব-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাময়িক বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

সরকারের দুঃশাসন থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাইকে যোগ দেবার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে মানবাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। শুধু বিএনপি নয় দেশের আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচার শাসনের অবসান ঘটাতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পতনের আন্দোলনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ডাঃ মজিবুর রহমান মজুমদার, কামাল সাঈদ মোহন, শরাফত হোসেন বাবু, আবদুস সবুর, এডভোকেট জামাল হোসেন জনি, আনোয়ার হোসেন, মন্জুর চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা বাবর উদ্দিন, নিয়াজ আহম্মেদ জুয়েল, সিনিয়র ডিস্টিক্ট জাজ নুর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সরকার, আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, ফারুখ হোসেন মজুমদার, জহির মোল্লা, মোশারফ সবুজ, আবু সাঈদ আহমমেদ, মাকসুদুল হক চৌধুরী, এম এ বাতেন, পারভেজ সাজ্জাদ, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, আতিকুল আহাদ, সাইফুর খান হারুন এবং মাজহারুল ইসলাম জনি প্রমুখ।

বিপি।এসএম