বিমান বানানো রবিউলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
১১ নভেম্বর, ২০২২

মমিনুল হক রুবেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়ন বিরামপুর গ্রামের রাজমিস্তুর মোঃ নাজু মিয়ার ছেলে রবিউল (১৬) ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু নিজের অদম্য মেধা খাটিয়ে ইউটিউব দেখেই চালকবিহীন প্লেন বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এ কিশোর। তার প্লেন বানিয়ে আকাশে ওড়ানোর খবর ‘বাংলাপ্রেস’ সহ এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।বিষয়টি নজরে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো.শাহগীর আলমেরও।

গত বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মো. রবিউল ও তার বাবা নাজু মিয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন।

এসময় রবিউলের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ শাহগীর আলম। ডিসি তখনই সদর উপজেলার হাবলা উচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।এ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে রবিউলের পড়াশোনার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন তিনি।পাশাপাশি তার জন্য দ্রুত উপবৃত্তির ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন ডিসি।এসময় তাকে প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের বইপত্র,
ইউনিফর্ম বাবদ ১০ হাজার টাকা নগদ জেলা প্রশাসকের শিক্ষা তহবিল থেকে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন,পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় এতদিন আমার পড়ালেখা বন্ধ ছিল।স্কুলে যেতে পারি নাই।বাবার কাজে সহযোগিতা করেছি।এখন জেলা প্রশাসক স্যারের জন্য আবার স্কুলে যেতে পারব।

রবিউল ইসলামের বাবা নাজু মিয়া বলেন,আমি গরিব মানুষ,যা রুজি করি তা দিয়ে কোনো রকমে আমার সংসার চলে।টাকার অভাবে আমার ছেলের পড়াশোনা করাতে পারিনাই।সে খুব মেধাবী,সে বিমান বানিয়েছে।বিমান বানানোর খবর টি বিভিন্ন টিভি পত্রিকায় প্রচার হয়।খবরটি ডিসি স্যারের নজরে আসলে স্যার আমাদের খবর দেই আসার জন্য।আমরা এসেছি স্যার আমার ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে।আজ আমি আনন্দিত আমার ছেলে লেখাপড়া করতে পারবে এবং আমার ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ায় আমি জেলা প্রশাসক স্যারের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

হাবলা উচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বাংলাপ্রেসকে জানান, বুধবার জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা পেয়েছি। সেই মোতাবেক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামের বিনাবেতনে পড়ালেখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম জানান, ছেলেটি মেধাবী। তার জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব কিছু ফ্রি করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে।

বিপি>আর এল