আমি যখন ধরি, ভাল করেই ধরি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক
৩১ মে, ২০১৮

বাংলাপ্রেস, ঢাকা: মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান সাঁড়াশি অভিযান চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাক, গডফাদার-ডন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি যখন ধরি, ভালো করেই ধরি। সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে বুধবার (৩০ মে) বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। আপনারা (সাংবাদিক) নিজেরাও মাদকের বিরুদ্ধে লিখেছেন, এখন যে-ই অভিযান শুরু করলাম, আবার এটা নিয়ে কথা উঠলো। এটা কেন? আর কে গডফাদার, ডন, কে কার ভাই -আত্মীয়, এসব আমি কখনো দেখিনি, দেখবো না। কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, এ অভিযানে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের ওপর গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু কোনো পত্রিকা কি লিখেছে তা? তা কিন্তু বলা হয় না।
‘আর যখন কোথাও পুলিশ- র‍্যাব অভিযানে যায়, সেখানে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, কোনো নিরীহ ব্যক্তি শিকার হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো। যদি বলেন, ভেজালবিরোধী-মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দিই। ছেলে মাকে, বাবাকে হত্যা করছে মাদকের কারণে। এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটে।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীকে এ সফরে ডি.লিট ডিগ্রিতে সম্মানিত করে।
এজন্য অভিনন্দন জানিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি পুরস্কার আরও পেয়েছেন, আরও পাবেন, কিন্তু যে পুরস্কারের প্রাপ্য আপনি, তা এখনও পাননি, সেটা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। এজন্য এখন থেকেই প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানাই। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পুরস্কারের প্রতি আমার প্রবৃত্তি নেই।
বুধবার বিকেলে গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে বলেন, সংবিধানে যেভাবে লেখা রয়েছে সেভাবেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচনকালীন সরকারও সংবিধান অনুযায়ী হবে। ভারতের কাছে প্রতিদান চাওয়া নিয়ে দেশটির একটি পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার চাওয়ার অভ্যাস কম, দেয়ার অভ্যাস বেশি। আর আমি কখনও প্রতিদান চাই না। আর আমরা ভারতকে যেটা দিয়েছি তা সারাজীবন তারা মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি-গুলি থেকে আমরা তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। কোন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে আমরা বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেইনি, দেবও না।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের ভারত সফরে তিস্তা নিয়ে আলোচনা করতে যাইনি। ভারত সরকার আমাদের কথা দিয়েছে, অপেক্ষা করুন। তিস্তার বদলে বিকল্প পানিবণ্টনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাদের প্রস্তাবে কি আছে, না কি করতে চায়Ñ সেটা ওই দেশের ব্যাপার। এ ব্যাপারে ভারতই ভাল বলতে পারবে। নির্বাচনের আগে বিকল্প জোট গঠনের প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বিচারে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে, হত্যা-সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে তাদের (বিএনপি-জামায়াত) আর দেশের জনগণ কোনদিন ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই যদি বিকল্প কোন জোট আসে আমাদের তো কোন আপত্তি নেই। তবে যারা (খালেদা জিয়া) দেশের স্বার্থ বিক্রি করে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে সেই দলের সঙ্গে আমরাও নেই, দেশের জনগণও নেই।
সম্প্রতি তাঁর দুদিনের ভারত সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরে ফিরে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান মাদকবিরোধী অভিযান, আগামী নির্বাচন উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীও সাবলীলভাবে সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া ডি. লিট ডিগ্রীটি মঞ্চের মূল টেবিলে রাখা হয়।
চলমান মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক সমাজে একটা ব্যাধির মতো, আপনারাই (সাংবাদিক) পত্র-পত্রিকায় লিখেছেন এটা। মাদকের কারণে সন্ত্রাস, মেয়েছেলেরা মা-বাবাকে খুন পর্যন্ত করছে। আপনারা কী চান অভিযান চলুক, নাকি বন্ধ হয়ে যাক। তিনি বলেন, খুব স্বাভাবিক যে এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু একটা ঘটনা ঘটতেই পারে। নিরপরাধ কেউ এই অভিযানের শিকার হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যে কয়টা ঘটনা হয়েছে, মনে হয় না একটাও নিরীহ ব্যক্তি শিকার হযেছে।
গণমাধ্যমে গ্রেফতারের ঘটনাগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু নিহতদের ঘটনাগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযানে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোন পত্র-পত্রিকায় কত গ্রেফতার হয়, তা বলা হয় না। যখন কোথাও পুলিশ কিংবা র‌্যাব অভিযানে যায়, আর সেখানে যদি কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে, এতে কোন নিরীহ ব্যক্তি শিকার হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব। আজ ছেলে মাকে, বাবাকে হত্যা করছে মাদকের কারণে। এ ধরনের অভিযান চালাতে গেলে কিছু ঘটনা ঘটে।
চলমান অভিযানে কোন গডফাদারও রেহাই পাবে না ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কাকে গডফাদার বলছেন? যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমি যখন যা ধরি, ভাল করেই ধরি। এটা তো আপনারা ভাল করেই জানেন। এ অভিযান হঠাৎই শুরু হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য নিয়ে, নজরদারি চালিয়ে এরপরই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। যে-ই গডফাদার, ডন বা বাহিনীর লোক যাই বলেন, জড়িত সবাইকে ধরা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। কার ভাই, কার আত্মীয় তা দেখা হবে না।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের উদ্দেশে করে শেখ হাসিনা বলেন, যখন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান করতে গেছি, তখনও একই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। সন্ত্রাস আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। মাদকবিরোধী অভিযান যেটা চলছে, সারাদেশের মানুষ তাতে স্বস্তি পাচ্ছে। এটা মানুষেরও দাবি। আজকে সমাজে একটা হাহাকার এই মাদক নিয়ে তার বিরুদ্ধে কী অভিযান চালানো যাবে না? ভেজালবিরোধী-মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দেই? তাহলে কি সমাজ খুব ভাল থাকবে? সেই জবাবটা আপনারা আমাকে দিন।
‘এবার বাংলাদেশ প্রতিদান চায়’- প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদের বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কোন প্রতিদান চাই না। আর প্রতিদানের কী আছে? আর কারও কাছে চাওয়ার অভ্যাস আমার কম, দেয়ার অভ্যাসই বেশি। আর আমরা ভারতকে যেটা দিয়েছি তা সারা জীবন তারা মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি-গুলি থেকে আমরা তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটাও তাদের মনে রাখতে হবে। এ সময় তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশের মাটি ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে একজন সিনিয়র সাংবাদিক-সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অনেক সমস্যা থাকে। এবার তো আমি তিস্তা নদী নিয়ে কথা বলতে যাইনি, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি আমাদের পানি ভিক্ষা চাইতেই হয়, তাহলে তিস্তা ব্যারেজ করলেন কেন? গঙ্গা ব্যারেজ হয়েছে, সেখানে আমরা প্রতিবাদ করেছি, পানি নিয়েও এসেছি। আমরা সকল নদী খনন করে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে পান্থপথসহ যে সব খাল বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোতে আবার খাল নির্মাণ করব, খালের ওপর রাস্তা করে দেব।
ক্ষমতায় যেতেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-খালেদা জিয়ারা কী কমবার ভারতে গেছেন? জিয়াউর রহমান তো অবৈধ ক্ষমতাকে টিকে রাখতে দু’বছরের মধ্যে ভারতে গিয়েছিলেন। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা তো গঙ্গা-তিস্তাসহ কোন সমস্যারই সমাধান করেনি। আজ বিএনপি নেতারা তিস্তা নিয়ে কথা বলেন। অথচ তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গা পানিবণ্টন নিয়ে কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলেন। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই গঙ্গা চুক্তি, শান্তিচুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, সমুদ্রসীমা অর্জনসহ অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করেছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে আজও ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধ চলছে। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছি। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পর এই ছিটমহল বিনিময় নিয়ে সংসদে ভারতের সব দল ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এখন সীমান্তে হত্যাকা- নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, বিএনপি ভারত নিয়ে কথা বলে, অথচ ১৯৯১ সালে এই ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। আমি কিছু তখন রাজি হয়নি। দেশের স্বার্থরক্ষা না করে যারা মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসে, তাদের সঙ্গে দেশের জনগণ কোনদিন থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ডি লিট ডিগ্রী অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রক্রিয়া চালাতে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া চালানোর আমার কোন ইচ্ছা নেই, আর লবিস্ট রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্যও আমার নেই। আর সামর্থ্য থাকলেও এসব আমি সমর্থন করি না।
তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, এ পর্যন্ত অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার আমি পেয়েছি। কোনটাই কিন্তু আমি চাইনি। পুরস্কার আমার কাছে কিছু না, বাংলাদেশের মানুষকে শান্তি দিতে পারলাম কি না, তাদের মুখে দুবেলা খাবার দিতে পারলাম কিনা সেটি আমার কাছে বড় বিষয়। গরিব মানুষের সুদের টাকায় নোবেল পাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। সাহিত্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নানা অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কবি নজরুলের নামে ডিগ্রী পেয়েছি, এটাই অনেক সম্মানজনক আমার কাছে।
ছোট দলগুলোর ফ্রন্ট থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথা আছে ‘জিরো প্লাস জিরো সমান জিরো’। এতিমের টাকা নিয়ে কোরফান শরিফেও লেখা আছে। আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা তো আমাদের সরকার দেয়নি। এটা দিয়ে তাঁরই পেয়ারের মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার। আর আমার তো সাজা দেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক।
তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) এতিমের টাকা আত্মসাত করে আদালতের রায়ে জেলে গেছেন। আদালতের রায়ে আমার কিছু করার নেই। আমি তো জেলের তালা খুলে দিয়ে তাঁকে মুক্তি দিতে পারব না। যদি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে (খালেদা জিয়া) গ্রেফতারই করতাম, তবে নির্বাচন বানচালের নামে সারাদেশে অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার সময়ই করতে পারতাম। তা কিন্তু আমরা করিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী কী জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোট, প্রহসনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, খালেদা জিয়ার ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন, মাগুরা মার্কা নির্বাচন এবং তাঁকে রেললাইনের ওপর দিয়ে দৌড় খাওয়ার কথা ভুলে গেছেন? দেশের সকল নির্বাচনের প্রহসন এই জিয়াউর রহমানের আমলেই শুরু হয়েছিল। সেই ব্যক্তির হাতে গড়া দলের নেতাদের মুখে নির্বাচন নিয়ে কথা মানায় না। আর কেউ নির্বাচনে না আসলে আমাদের কী করার আছে? কেউ নির্বাচনে আসবে কি আসবে না এটি সেই দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে বদু কাকার (বদরুদ্দোজা চৌধুরী) কথা শুনলে সেই কথায় মনে হয় ‘মেরেছো কলসির কানা, তাই বলে কী প্রেম দেব না।’
নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোন চাপ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জনগণের রায়ই শেষ কথা। তবে নিজের দেশের মাটিতে যাদের জায়গা নেই, আস্থা নেই তারাই বিদেশীদের কাছে নালিশ করে, মিথ্যাচার করে। আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষ। বাংলার মাটিতেই আমার জায়গা। দেশের মানুষের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তাই সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। আর নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটের জনপ্রিয় দুই খেলোয়াড় মাশরাফি ও সাকিবের নির্বাচনের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তারকারা রাজনীতি এলে তৃণমূলের রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে আসাটা বাধাগ্রস্ত হবে কি না। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই তারকারা মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। এটা নতুন কিছু নয়। এখনও কারও যদি আকাক্সক্ষা থাকে নিশ্চয়ই কিছু হবে। কারণ তারা আমাদের দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন, খেলাটাকে ভাল অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর সব দেশেই এটা দেখা যায়। তার মানে এই নয় যে তৃণমূলের নেতারা মনোনয়ন পাবে না। আমরা সবাই তৃণমূল থেকে এসেছি। স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি। আমরা সেলিব্রেটি হয়ে আসিনি। কাজেই আমরা তো আছিই।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে মাশরাফির নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। উনি যদি নির্বাচন করেন, তাহলে তাঁকে ভোট দেবেন। একই কথা সাকিব প্রসঙ্গেও।