২৩ আগস্ট ২০২৬

৪৮ গ্রাহকের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের রহস্য উদ্ঘাটন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ পিএম
৪৮ গ্রাহকের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের রহস্য উদ্ঘাটন

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালী। এ ঘটনায় মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

আসামি খোকন (৫৫) লক্ষীপুরের সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের বাড়ির মৃত আলী আকবরের ছেলে।

পিবিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয় জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর থানার একটি মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকন ২০১৯ সাল থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির লক্ষ্মীপুর জেলার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত মিরিকপুর শাখার একটি আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াকে ট্রেইলার হিসেবে নিয়োগ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন বা হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে এবং আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে ৪৮ জন গ্রাহককে ভুয়া, হাতে লেখা এবং ভুয়া বায়োমেট্রিক ফিক্সড ডিপোজিট স্লিপ দেওয়া হয়। এভাবে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলাটি লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় দায়ের করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট মো. নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন। মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই নোয়াখালী জেলার এসআই (নিরস্ত্র) মো. কামাল আব্বাস। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটির নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে মূল আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআই নোয়াখালীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি