৪ আগস্ট ২০২৬

৫২ বছরের ইতিহাসে ফিফার তিন সভাপতিই জড়িয়েছেন বিতর্কে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
৫২ বছরের ইতিহাসে ফিফার তিন সভাপতিই জড়িয়েছেন বিতর্কে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  গত ৫২ বছরের ইতিহাসে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ফিফা) শেষ ৩ সভাপতি বিতর্কিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিতর্কে জড়ান তিনি।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে। যদিও সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে দাঁড়ান। তারপরও বিতর্ক থামছে না। এই ঘটনাকে ফিফার ইতিহাসের বিচ্ছিন্ন কোনো অধ্যায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অতীতে আরও দুই ফিফা সভাপতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। 

হাভেলাঞ্জ

১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ২৪ বছর ফিফার সভাপতি ছিলেন জোয়াও হাভেলাঞ্জ। এখন পর্যন্ত তিনিই ফিফার একমাত্র সভাপতি তিনি ইউরোপের বাইরের। তার সময়ে বিশ্বকাপের পরিসর বেড়েছে, সদস্য ফেডারেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বড় স্পনসর ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিফার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তবে এই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণই পরে ফিফার সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিগুলোর একটির সঙ্গে হাভেলাঞ্জের নাম জড়িয়ে যায়। ঘটনার কেন্দ্রে ছিল ফিফার সাবেক বিপণন অংশীদার ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্ট অ্যান্ড লেইজার বা আইএসএল। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার স্বত্বসংক্রান্ত চুক্তি পাওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসে।

২০১৩ সালে ফিফার নৈতিকতা কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসএলের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন হাভেলাঞ্জ। প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে নৈতিক ও চারিত্রিকভাবে গুরুতর আপত্তিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুদিন আগে ফিফার সম্মানসূচক সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ১৯৯৮ সালে ফিফা সভাপতির পদ ছাড়েন হাভেলাঞ্জ। তার উত্তরসূরি হন তৎকালীন মহাসচিব সেপ ব্লাটার।

ব্লাটার

১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৭ বছর ফিফার নেতৃত্বে ছিলেন জোসেফ ‘সেপ’ ব্লাটার। হাভেলাঞ্জের শুরু করা বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ধারাই তিনি এগিয়ে নেন। ফিফার আয় বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণের কাঠামোও শক্তিশালী করেন তিনি। এর মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিও মজবুত করেছিলেন ব্লাটার।

তবে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন নিয়ে বছরের পর বছর নানা অভিযোগ ও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে। ২০১৫ সালের মে মাসে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের ভিত্তিতে জুরিখে ফিফার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেফতার হন। 

ব্লাটারের বিরুদ্ধে ফিফার অভ্যন্তরীণ শাস্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ২০১১ সালে মিশেল প্লাতিনিকে দেওয়া ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ফিফার নৈতিকতা কমিটি মনে করেছিল, এই অর্থ লেনদেন স্বার্থের সংঘাত, প্রাতিষ্ঠানিক আনুগত্য এবং সুবিধা দেওয়ার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ব্লাটার ও প্লাতিনিকে প্রথমে আট বছরের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও পরে সেই শাস্তি কমানো হয়।

ইনফান্তিনো

২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। ব্লাটার যুগের কেলেঙ্কারির পর ফিফার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় আসেন সাবেক উয়েফা মহাসচিব এই সুইস আইনজীবী।

সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হন ইনফান্তিনো। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তবে তার প্রশাসনও শাসনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা, সাবেক কর্মকর্তা, বিভিন্ন ফেডারেশন ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বর্তমান সমালোচনার মূল জায়গাগুলো হলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি।

ইনফান্তিনোর ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের পুনর্নির্বাচনের পক্ষে আগে সমর্থন জানানো কয়েকটি ফেডারেশন এখন সেই সমর্থন প্রত্যাহার করেছে।

গত ৫২ বছরে হাভেলাঞ্জ, ব্লাটার ও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বিতর্কিত। সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি