আইন-শৃংখলা ব্যর্থতায় মানুষ আজ মানুষকে পিটিয়ে মারছে : ফকরুল

মামুনুর রশিদ (মিঠু), লালনিরহাট থেকে : বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমঙ্গীর বলেছেন দেশে এখন মহামারি ঘটছে। পাতানো সরকার দেশে দুশাসন প্রতিষ্টা করছে। ডেঙ্গু নিধনে ব্যার্থ হয়ে সরকার তামাশা দেখছে। আর গুজব দেশে সৃস্টি হয়েছে আইন শৃংক্ষলা বাহিনীর মানুষ মারা কর্মকান্ড থেকে। পুলিশ আইন শৃংক্ষলা রক্ষায় ব্যার্থ হওয়ায় দেশে মানুষ আজ মানুষ কে পিটিয়ে মারছে। দেশে কোন আইনের শাসন নেই।
শনিবার তিনি সকালে লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া এলাকায় তিস্তাপাড়ে বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রান বিতরন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
এ সময় বিএনপি স্থানীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান টুকু, যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ মেয়াজ্জেম হোসেন আলাল, লালমনিরহাট বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ অনেকে ছিলেন। মীর্জা ফকরুল আরো বলেন বিরোধী দলে থাকতে শেখ হাসিনা বলেছিলেন ক্ষমতায় গেলেই তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হবে। কিন্তু ক্ষমতার ১০ বছরেও তিনি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, এ সরকার ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে শেষ করে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। মানুষের ভোটে এমপি-মন্ত্রী হলে তারা জনগণের পাশে থাকতো, জনগণের দুঃখ কষ্ট বুঝত।
তাই আজকে বন্যার মতো এ জনদুর্ভোগে এমপি-মন্ত্রীরা এলাকায় নাই। প্রধান মন্ত্রী বিদেশ সফর করেন। ধানের দাম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ধানের দাম বাড়ায়নি। কিন্তু চালের দাম ঠিকই বাড়িয়েছে। এই সরকার কৃষকের নয়, এই সরকার গরিবের নয়। শাসনের নামে শোষণে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে এ সরকার। এর পর আদিতমারী উপজেলা গোবর্ধন এলাকায় ত্রান বিতরনকালে তিনি আরো বলেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, চিকিৎসকসহ প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হয়ে এটাকে গুজব বলে চালিয়ে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা মানুষকে ভালোবাসে না। তাই এদের কোনো দায় দায়িত্ব নাই।
বন্যা দুর্গত এলাকায় কোনো এমপি, মন্ত্রী বা সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা নাই। বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য যে পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। সে অনুপাতে সরকার ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি। দুর্যোগ কবলিত মানুষের পাশে বিএনপি সব সময় থাকে। বিগত ১২/১৩ বছর জনগণহীন সরকারের হামলা, মামলায় জর্জরিত হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়েছি। তবুও আমাদের যেটুকু আছে, তাই নিয়ে এসেছি। বন্যার্তদের সহায়তা করে সহানুভুতি জানাতে।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করায় তৎকালীন পাকিস্তানী সরকার, সেনানিবাসে অবস্থানরত খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দি করে রাখে।
এরপর স্বৈরশাসককে হটাতে খালেদা জিয়া পথ পথে ঘুরে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ ১৬/১৭ মাস ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে এ ভোট ডাকাত সরকার।’ তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘ছেলেধরা’গুজব প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, ছেলেধরা কী? দেশে আইন নাই, শৃঙ্খলা নাই? যেখানে পুলিশ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। সে সমাজে তো এটা হবেই। সরকার এ সমস্যারও সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি- জামায়াতের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এটা না কি বিএনপি- জামায়াতের কাজ। সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যেতেই ব্যস্ত।
ছেলেধরা ধরতে সরকারের সময় কোথায়? আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন,সরকার নিজে ক্ষমতায় থাকতে রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্র নষ্ট করেছে। আজ আদালতে গেলে বিচার নেই, টাকা ছাড়া থানায় মামলা হয় না। টাকা ছাড়া চাকরি নেই। ত্রাণ বিতরণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির কর্মসূচি চলছে। আমরা সারাদেশে সমাবেশ করছি। আন্দোলন করে তো তাকে মুক্ত করা যাবে না।
জনগণহীন এ সরকার জবরদস্তি করে ক্ষমতায় বসে আছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে তবে তাকে মুক্ত করা হবে।’ হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা প্রমুখ। বিএনপির পক্ষ থেকে লালমনিরহাটে দুইটি স্থানে মোট এক হাজার দুইশ’ পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, আলু তেলসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। ঢাকা হতে নিয়ে আসা হয়েছিলো বিশেষ মেডিকেল টিম। চিকিৎসকগণ বন্যা কবোলিত এলাকার অসুস্থ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যাবস্থাপত্র সহ ঔষধ বিতরন করেন।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি