আইসিইর আটক থেকে মুক্তি চান ওবামার আমলে গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়া ব্যক্তি
নোমান সাবিত: সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় যার গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তি এখন আদালতের কাছে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশ চেয়েছেন। মঙ্গলবার দাখিল করা এক আদেশে মামলাটি লুইজিয়ানার ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিজেই নিজের পক্ষে লড়ছেন রায়ান গিটেন্স। তিনি আগস্ট ২০২৫-এ দাখিল করা এক চিঠিতে জানান, তাকে ২৯ জুলাই ২০২৫ আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে নেয়। তার অভিযোগ, আইস জানত যে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়, তবুও তারা তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, তার আটক 'অবৈধ' এবং তিনি অবিলম্বে মুক্তি চান।
গিটেন্স জানান, তিনি আগে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আইসিই হেফাজতে ছিলেন এবং চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ পাওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নিউজউইক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে যোগাযোগ করেছে।
অভিবাসন আইন প্রয়োগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। গত মাসে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গিটেন্স বলেন, ২০১৩ সালে এক অভিবাসন বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বহিষ্কারের যোগ্য বলে রায় দেওয়ায় তার গ্রিন কার্ড বাতিল হয়। তবে তাকে তখন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়নি এবং তিনি গত ১১ বছর ধরে নিউইয়র্কে একজন ইএমটি (জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ) হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
তার দাবি, আইসিই তাকে বহিষ্কার করতে পারেনি, আর তিনি ২০১৩ সাল থেকে সংস্থার সব নির্দেশ মেনে চলেছেন, নিয়মিত রিপোর্ট করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তির পর থেকে তিনি কোনো তত্ত্বাবধান ভঙ্গ করেননি এবং কোনো অপরাধও করেননি।
গিটেন্স আরও জানান, আটক হওয়ার পর তিনি আইসিই কর্মকর্তাকে জানান যে তিনি স্পাইনাল স্টেনোসিসে ভুগছেন, কিন্তু তাকে 'উপেক্ষা' করা হয় এবং তাকে একটি বিছানাবিহীন কক্ষে রাখা হয়।
তার ভাষায়, 'কঠিন' মেঝেতে শুয়ে থাকতে হওয়ায় তার 'মেরুদণ্ড, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হচ্ছে এবং পেশিতে খিঁচুনি ধরছে।' তিনি আরও বলেন, আটক অবস্থায় তিনি তার স্টেনোসিসের জন্য যে প্রতি তিন মাস অন্তর এপিডিউরাল চিকিৎসা নেন, তা নিতে পারবেন না।
২০১২ সালে দাখিল করা এক ভিন্ন মামলার নথিতে গিটেন্স জানান, তিনি বার্বাডোজে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৪ সালে ৮ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আসেন। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তাকে নিয়ন্ত্রিত মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
হরমুজ প্রণালি খোলার উদ্যোগ, জাতিসংঘের প্রস্তাব কতটা কার্যকর?
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি