২৪ আগস্ট ২০২৬

আজ ট্র্যাজিক ‘ইয়াসমিন হত্যা’র ৩১তম বার্ষিকী: ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১২ এএম
আজ ট্র্যাজিক ‘ইয়াসমিন হত্যা’র ৩১তম বার্ষিকী: ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়

দিনাজপুর প্রতিনিধি: আজ ২৩শে আগস্ট, বাংলাদেশের নারী আন্দোলন ও সামাজিক প্রতিবাদের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাদায়ক দিন—‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে ঘটেছিল এক নৃশংস ঘটনা, যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে এবং জন্ম দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় গণআন্দোলনের।

ঘটনার পেছনের ইতিহাস:

১৯৯৫ সালের ২৩শে আগস্ট দিবাগত রাতে ঢাকার ধানমন্ডির এক বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ শেষে দিনাজপুরে নিজ বাড়িতে ফিরছিল আনুমানিক ১৬ বছর বয়সী কিশোরী ইয়াসমিন আক্তার। বাস থেকে তিনি দিনাজপুরের দশমাইল মোড় এলাকায় নামেন। ওই সময় টহল পুলিশের একটি ভ্যান সেখানে এসে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের পরামর্শে নিরাপত্তার স্বার্থে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইয়াসমিন পুলিশের ভ্যানে ওঠেন। কিন্তু নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের হাতে ছিল, তাদের হাতেই চরম নির্মমতার শিকার হতে হয় তাকে। পরদিন সকালে গোবিন্দপুর এলাকায় মিলে ইয়াসমিনের নিথর দেহ।

প্রতিবাদে উত্তাল দিনাজপুর ও গণঅভ্যুত্থান:

কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ। ২৪ থেকে ২৭শে আগস্ট টানা আন্দোলনে পুরো দিনাজপুর যেন এক অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সরকারি দপ্তর, কাস্টমস গুদাম ও ইউএনও অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে বিডিআর মোতায়েন ও কারফিউ জারি করা হলেও সাধারণ মানুষ তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে।

একপর্যায়ে কোতোয়ালী থানা ঘেরাও করে সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে আরও ৭ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। পুলিশের প্রতি জনক্ষোভ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাধারণ মানুষের বয়কটের মুখে পুলিশ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন। সে সময় ভোরের কাগজ-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “গোটা শহরটাই যেন প্রেতপুরী... শহরবাসী আর পুলিশকে বাসা ভাড়া দিবে না।” তীব্র ক্ষোভের মুখে তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১০৫ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়।

আইনি লড়াই ও বিচার:

ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও প্রবল গণদাবির মুখে ইয়াসমিনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ঘটনার নয় বছর পর, ২০০৪ সালে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

প্রতিবছরই ২৩শে আগস্ট দিনাজপুরের সুশীল সমাজ, বিভিন্ন নারী ও সামাজিক সংগঠন ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। কিশোরী ইয়াসমিনের এই আত্মত্যাগ ও তার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন আজও দেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

 

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি