আরও এক এনসিপি নেত্রীর পদত্যাগ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
ফেসবুকে তিনি লেখেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমার পদত্যাগপত্রটি আমার বন্ধু, কমরেড ও সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করছি।
পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন- আমি সৈয়দা নীলিমা দোলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সব দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি মনে করি, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থি রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এত দিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ আমি মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে এটুকু স্পষ্ট, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থি ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির যে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট তা কোনো কৌশলগত জোট নয়, যদি হতো তাহলে এত নেতাকর্মী পদত্যাগ করত না। দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করা হয়েছে।
পদত্যাগ করার পর সাধারণত দলে থেকে যাওয়াদের অনেকে এমনটা বলেন যে, ক্ষমতা ও গুরুত্ব দেওয়ার পরেও আমরা চলে গেলাম কেন? তাই দলের সবার স্বার্থে জানিয়ে রাখি, আমাকে কেউ কোনো ক্ষমতা দেয়নি বরং আমার প্রগতিশীল মানসিকতা এবং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পরিচয় এনসিপিকে শক্তি জুগিয়েছে এত দিন।
যারা পদত্যাগ করছেন তাদের বামপন্থি বলে ফ্রেমিং করাটাও একটা গেইম প্ল্যানেরই অংশ বলে আমি মনে করি। কেননা এতে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ। বামপন্থিরা বেরিয়ে যাচ্ছেন কেন? এই পালটা প্রশ্ন আমি করতে চাই। তাহলে কী যারা রয়ে গেল সবাই ডানপন্থি? আপনারা না একটা সেন্ট্রিস্ট দল?
একটি বিষয় বলা দরকার, আমি এনসিপিতে আসার আগেও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্পেসে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করেছি। এনসিপিতে আসার পরেও করেছি। সুতরাং দলের সঙ্গে আদর্শিক জায়গা ছাড়া আমার আদান-প্রদান খুবই সীমিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আমার মতো কর্মীকে ধরে রাখার সামর্থ্য এনসিপির এখন আর নেই।
আমি এটাও মনে করি যে, জুলাইয়ের জনতার কাছে এনসিপির অনেক দায় রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর এনসিপির ওপর বাংলাদেশের মানুষ যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিল তা বিগত কয়েকমাসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। আমি মনে করি আসন্ন কঠিন সময়ে জনতা এনসিপিকে এর সমুচিত জবাব দেবে। তবে এ কথাও সত্য, ইতোমধ্যে দল হিসেবে এনসিপি সেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া শুরু করেছে।
এনসিপির ভেতরে থেকেই আমি তীব্র লড়াই চালিয়ে গেছি। দলটা যেন সেন্ট্রিস্ট অবস্থানে থাকে সে জন্য নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, হিন্দু, মাজারকেন্দ্রিক জনগণকে এক করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত দেড় বছরজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব ঘরানার প্রান্তিক মানুষের ওপর চলা অনিয়ন্ত্রিত অনাচার ও নির্যাতন নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ব্যাপারে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই ‘তারুণ্যনির্ভর’ দলকে অন্তত পাঁচ দিন করে ভাবতে হয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের দায়সারা প্রতিবাদ আমার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং দেশের আপামর মানুষের জন্যেও তা হতাশার।
সবশেষে এই বলব যে, আমার বা আমার মতো মানুষদের এনসিপি থেকে বিদায় এটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের আরও একটি পক্ষশক্তি আছে। এ মানুষেরা বাংলার জনতা ও জমিনকে চেনে বলেই আমি ধারণা পোষণ করি।
এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলতে চাই, রাজনৈতিক প্রয়োজনে নেগোসিয়েশন বা দফা-রফা সবাই বা বেশিরভাগ দল করলে করুক, এনসিপির জন্য তা নিতান্ত বেমানান। কারণ এনসিপি হাজারও জুলাই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। আমি দলটির নেতাদের বলতে চাই, ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি। আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোনো ধর্মীয় বিপ্লব বা অভ্যুত্থান হয়নি।
তবে আপনারা এই অভ্যুত্থানকে ধর্মীয় মোড়কে ভরে আওয়ামী বয়ানকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে রয়েছেন। এজন্য আপনাদের লাল সালাম। পৃথিবীর যাবতীয় সমৃদ্ধি আপনাদের ঘিরে রাখুক।
পদত্যাগপত্রের অনুলিপি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও দলীয় দফতরে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, নীতির দিক থেকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা আমার কাছে মনে হয়েছে ঠিক নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। কৌশলগত দিক থেকে জোট করা হলেও আমাকে না জানিয়ে কোয়ালিশন করা হয়েছে। তাই আমি এ দলে থাকার জন্য নিজেকে ভালো মনে করছি না। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে তাসনিম জারা, তাসনুভা জাবীনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি