২২ জুন ২০২৬

বোয়ালমারীতে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে ভাতার টাকা আত্মসাত ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
বোয়ালমারীতে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে ভাতার টাকা আত্মসাত ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুর থেকে সংবাদদাতা: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ৩ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা আত্মসাত ও বয়স্ক ভাতা দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘোষপুর গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধি মো. মিরাজ হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, ৪নং ওয়ার্ডের কামরুল মেম্বার প্রতিবন্ধি ভাতার বই করে দেয়ার কথা বলে দুই বছর আগে ২ হাজার টাকা নেয়। এখন পর্যন্ত ভাতার বই বা টাকা কোনটাই পাইনি। ৯নং ওয়ার্ডের লংকারচর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধি দীপক গোলদারের (২০) বাবা দিলীপ গোলদার জানান, বছরখানেক আগে ৩ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য অপু সরকার প্রতিবন্ধি ভাতার বই করে দেয়ার কথা বলে অফিস খরচ বাবদ দুই ধাপে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নেয়। গত ৯ জুন আমার ছেলে দীপককে সাথে নিয়ে আমার মা বোয়ালমারী সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য যায়।

অপু সরকার আমার মাকে ব্যাংকের গেটে বসিয়ে রেখে দীপককে ভিতরে নিয়ে গিয়ে টিপসই রেখে ভাতার ৪ হাজার ২শ টাকা উত্তোলন করে। অপু সরকার আমার ছেলের হাতে মাত্র ১শ টাকা দিয়ে মার সাথে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গোহাইলবাড়ী গ্রামের নৃপেন চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী শংকরী বিশ্বাস অভিযোগ করেন তার স্বামীর বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে ৭নম্বর ইউপি সদস্য ইউনুচ মোল্যা ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। এ ছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন আমাদেরকে সময় মত ভাতার বইও দেওয়া হয়নি। এ সব অভিযোগের ব্যাপারে ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধিদের তালিকা জমা দেয়া হয়েছিল। শুনেছি ভাতার বই চেয়ারম্যানের নিকট সমাজসেবা অফিস হস্তান্তর করেছে। ভাতার বই করে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ৩ নং সংরক্ষিত (৭, ৮, ৯) ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য অপু সরকার বলেন, ভাতার বই করার জন্য কারও কাছ থেকে কোন টাকা নেয়া হয়নি। ভাতাভোগী দীপককে সব টাকা দেয়া হয়েছে।

ইউপি সদস্য মো. ইউনুচ মোল্যা মোবাইলে বলেন, কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ভাতার বই ঠিক সময় পৌঁছে না দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেনের সাথে আমার সম্পর্ক ভাল না থাকায় ভাতার বই বিতরণের জন্য আনতে যায়নি। সব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান এসএম ফারুক হোসেন বলেন, কিছু বিষয়ে অভিযোগ আমার কানে এসেছে। কোন সদস্য অর্থ আদায় বা আত্মসাৎ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আমি নিজে ভাতা ভোগীদের ব্যক্তিগত ভাবে খবর দিয়ে যার বই তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার প্রকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, ভাতা নিয়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ নেই। আমার কাছে এ ধরণের কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি। ভাতা ভোগীরা কারো মাধ্যমে নয় নিজেরা উপস্থিত হয়ে টাকা উত্তোলন করবে

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি