৩ নভেম্বর ২০২৬

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পের সম্মাননায় লন্ডনে ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পের সম্মাননায় লন্ডনে ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক: যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য খাতের এক বিশাল উদযাপনকে ঘিরে গত রবিবার (১ নভেম্বর, ২০২৬) রাতে লন্ডনে ব্রিটেনের কারি শিল্পের এক মিলনমেলা বসেছিল, যেখানে প্রায় ১,০০০ অতিথি সমবেত হয়েছিলেন।

টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাওয়া ১৯তম বার্ষিক বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) অ্যাওয়ার্ডসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেইসব রেস্তোরাঁ, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং কারির প্রতি ব্রিটেনের মানুষের ভালোবাসা অটুট রাখতে ভূমিকা রাখছেন।

পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ গালা ডিনারটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং এই শিল্পের পেছনের মানুষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন—যে শিল্প হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং বহু পুরস্কার বিজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামি।

এই আয়োজনকে ঘিরে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শুভেচ্ছা ও সমর্থন বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা এই অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়।

অনুষ্ঠানে জনসেবা, ব্যবসা এবং কমিউনিটিতে নিজ নিজ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কেভিন বোনাভিয়া এমপি, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আব্দুল জব্বার এবং মানবাধিকার কর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিই-কে বিশেষ ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করা হয়।

বিসিএ সভাপতি অলি খান এমবিই বলেন, “রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসাথে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীদের অভিনন্দন, যাদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।”

মহাসচিব টিপু রহমান বলেন, “আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদযাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জনগুলো ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি এ বছরের বিজয়ীরা তাদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।”

তারকাখচিত এই অনুষ্ঠানে এমপি, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহামান্য মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই।

কোষাধ্যক্ষ ফয়জুল হক বলেন, “প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন ব্যবসায়ী এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে (হাই স্ট্রিট) অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসাথে বসে সেই অর্জনগুলো উদযাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।”

প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, “ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাদের মানুষ, গল্প এবং ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদযাপন ছিল এই সন্ধ্যাটি। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসাথে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদযাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে, আর আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা এরই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান বিইএম যোগ করেন, “এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অসামান্য অবদানকে তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি সমগ্র যুক্তরাজ্য জুড়ে ১২,০০০ রেস্তোরাঁ মালিকের প্রতিনিধিত্ব করে।
বিপি > এসপি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি