ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা’ বললেন হুমায়ুন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার বিফ্রিংয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি মন্ত্রিসভায় নতুন যোগ দেওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বরং এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদেরই পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে চেয়েছেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না?’
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এক সাংবাদিক বলেন, হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য প্রয়োজন। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশি এবং দেশের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি তিনি।
পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধা আছে কি না। এ সময় হুমায়ুন কবির জানতে চান, বিষয়টি কে সংবাদ করেছে। সাংবাদিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন!’
কোন সংবাদপত্র এ নিয়ে খবর করেছে, তা-ও জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না?’
এ সময় ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার?’
তবে এত কথার পরও সাংবাদিকদের মূল প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী কিনা কিংবা তা ত্যাগ করে থাকলে কবে করেছেন, কোনোটিই পরিষ্কার করেননি।
বিএনপি সরকারের ছয় মাসের মাথায় গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নতুন পাঁচ মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। হুমায়ুন কবিরের বেড়ে ওঠার বড় অংশ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। দেশটির লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির একাধিক নেতা তাকে ব্রিটিশ নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে তারাও নিশ্চিত নন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও জানিয়েছে, তার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
এ কারণেই মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবাদ হয়েছে।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হয়।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
হজযাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির, আশ্বাস রাষ্ট্রদূতে
চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা, পচনে মরদেহ কালচে হয়েছে: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক
সঙ্গীত একাডেমি