বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।এ ছাড়া সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।দীর্ঘদিন ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পক্ষে এই মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত ছিল বিধায় বিচারিক আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি বাতিলের জন্য আবেদন করলে ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। আজকের রায়ের ফলে এখন মামলাটির কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা রইল না।বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য আছে। গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এই তারিখ ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় এই মামলা করেন। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. আবুল কাসেম ফকির অভিযোগপত্র দাখিল করেন।বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলার বিবরণে জানা যায়, ১/১১-এর জরুরি অবস্থার সময়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা করে।শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম। মামলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে খালেদা জিয়া সভাপতি হয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এতে চারদলীয় জোট সরকারের প্রয়াত স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রয়াত তথ্যমন্ত্রী শামসুল ইসলাম, প্রয়াত কৃষিমন্ত্রী এম কে আনোয়ার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল।পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম তিন মাস স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মামলা দায়ের ও কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না—জানতে চেয়ে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে রুলও জারি করেন। পরবর্তী সময়ে মামলার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ মামলায় স্থায়ী জামিনে রয়েছেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে সরকার নয়ছয় করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকবে ড্যাশবোর্ড: অর্থমন্ত্রী
সঙ্গীত একাডেমি