ব্যাংক ধসের জেরে ৩০ লাখ গ্রাহকের অর্থ আটকে, পদত্যাগ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ করেছেন। ডিজিটাল ব্যাংক ধসে প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের অর্থ আটকে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি। ব্যাংকটি দেউলিয়া হওয়ার ঘটনায় প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবহেলা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছ, ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনো ধসে লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারানোর পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ করেছেন। বিরোধী দল অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভও চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ব্যাংকটির ধসের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অবহেলা, স্বার্থের সংঘাত ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পেনা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত পেনা এমন সময় পদ ছাড়লেন, যখন বিরোধী দল কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। একই সময়ে বিক্ষোভকারীরাও তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন।
অবশ্য পদত্যাগের আগে নিজের রক্ষণশীল দলের সদস্যদের সমর্থনও হারান পেনা। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা।
আল জাজিরা বলছে, উয়েনো ব্যাংকের পতনের ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত, পেনশন তহবিলের অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিলেন আইনপ্রণেতারা। একসময় সীমিত পরিসরে কাজ করা আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই মাঝারি পর্যায়ের ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল। ব্যাংকটি প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের সরকারি তহবিল পরিচালনা করত।
আল জাজিরার লাতিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান বলেন, ‘অন্তত অবহেলা এবং ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে পড়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে’। তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট—উভয়ের বিরুদ্ধে অভিশংসনের চেষ্টা করছে কংগ্রেস। এ নিয়ে অধিবেশন চলছে।’
নিউম্যান বলেন, ‘আমি যখন কথা বলছি, তখন বাইরে লোকজন বিক্ষোভ করছেন। তারা কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার আহ্বান জানাচ্ছেন। কারণ তাদের দাবি, তারা চান তার বিচার হোক এবং তাকে অভিশংসিত করা হোক।’
সংবাদমাধ্যম বলছে, ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি শনাক্ত করার পর উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরই সংকটের সূত্রপাত হয়। এর ফলে ৬৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাবের অর্থে প্রবেশাধিকার হারান।
পদত্যাগের ভাষণে পেনা আরও বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা হবে, আমানত সুরক্ষা তহবিল তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে এবং সরকারি অর্থের পাশাপাশি প্যারাগুয়ের সব নাগরিকের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।’
এ বিষয়ে উয়েনো ব্যাংক এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তুরস্কের সংসদে অনুমোদন
সঙ্গীত একাডেমি