চলতি মাসেই খুলছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া অঞ্চলের তীব্র যানজট কমাতে ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে গতি আনতে চলতি আগস্ট মাসেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাভারের বাইপাইলে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা শেষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে আলাপকালে সেতু সচিব নিশ্চিত করেন যে, প্রায় ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেন অংশের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি মাসের মধ্যেই দুটি সার্ভিস লেন সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দিয়ে সচিব জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণস্থলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও অর্থায়ন
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক অগ্রগতি পৌঁছেছে ৭১.৫০ শতাংশে, যার মধ্যে বাস্তব কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।
দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে নির্মিত হলেও, এই এক্সপ্রেসওয়েটি বৈদেশিক ঋণে জিটুজি (G2G) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মূল অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য
২০২২ সালের ১২ নভেম্বর মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়া ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটির অবকাঠামো আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার অংশ নির্মাণকালে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নতুন দুয়ার
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সম্পন্ন হলে তা দেশের সড়ক পরিবহন খাতে এক বিশাল রূপান্তর আনবে। এটি চালুর পর ব্যবহারকারী যানবাহনকে সরকারের নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্পটি সরাসরি যুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক-এর সঙ্গে, যা আন্তঃসীমান্ত বা আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সড়ক যোগাযোগ বহুগুণ সম্প্রসারিত করবে।
একই সাথে এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল—দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মহাসড়কের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ সংযোগ তৈরি করবে।
ফলে রাজধানী থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলগামী যান চলাচল যেমন দ্রুতগামী হবে, তেমনই বাইপাইল-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট পরিস্থিতি দূর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
কীসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে: প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিদেশফেরত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা, সতর্ক করল পুলিশ
সঙ্গীত একাডেমি