৪ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায় তৃতীয় শ্রেণি পাস ডেন্টাল সার্জন গ্রেফতার!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ঢাকায় তৃতীয় শ্রেণি পাস ডেন্টাল সার্জন গ্রেফতার!
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রাজধানীর খিলগাঁওয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে ভুয়া দন্ত চিকিৎসক নূর হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম। তারা দুজন শ্বশুর-জামাই। দুজনে মিলে পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার নামে খিলগাঁও তিলপাপাড়ায় গড়ে তুলেন একটি একটি দন্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। নুর হোসেন লেখাপড়া করেছেন তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত আর তার মেয়ের জামাইর শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণি। অথচ জামাই ও শ্বশুর নিজেদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। আজ দুপুরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া এই দুই চিকিৎসককে আটক করেছে। জানা গেছে, তিলপাপাড়া ৭ নম্বর সড়কের একটি বাসার নিচে আগে ডা. জিহান কবির নামে একজন দন্ত চিকিৎসক বসতেন। করোনার শুরুতেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে সেই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র‌্যাব-৩ এর ভ্রাম্যাণ আদালত। অভিযান শেষে শ্বশুর নূর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন নূর হোসেন। আগে একটি দন্ত ক্লিনিকে সহকারি হিসেবে কাজ করার কারণে এ ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতা ছিল। রাতারাতি সাইনবোর্ড পাল্টে নিজে হয়ে যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বিষয়টা জানতে পেরে র‌্যাব সেখানে ওঁৎ পাতে। দেখা যায়, এক রোগীর রুট ক্যানেল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নূর হোসেন। এ সময় তাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত। শ্বশুর নূর হোসেনকে দেয়া হয় দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং জামাই জাহিদুল ইসলাম দেয়া হয়েছে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, দাঁত শরীরের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অংশ। অথচ এ বিষয়টা নিয়ে তারা প্রতারণা করে আসছিল। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচার শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোপন তথ্য অনুযাযী, রাজধানীর বিভিন্ন অলি-গলিতে এমন আরো অনেক ভুয়া ক্লিনিক ডাক্তার আছে, আমরা ধারাবাহিকভাবে সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো। অভিযানে দেখা যায় অন্য ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ডাক্তার অপারেশনসহ দাঁতের সকল ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন নূর হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ভুয়া চিকিৎসক নূর হোসেন ওষুধের নামও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারছিলেন না। তখন সন্দেহবশত জানতে চাইলে নূর হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তিনি অপর ভুয়া চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের শ্বশুর। জামাতা জাহিদুল আগে পাথর কোম্পানিতে চাকরি করতো। পরে শ্বশুরের সঙ্গে দাঁতের ভুয়া চিকিৎসা শুরু করে। জিহান কবির নামের এক চিকিৎসকের প্যাডে তারা স্বাক্ষর করে চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছিলেন। জামাই জাহিদুল ওষুধের নাম লিখতেন, আর শ্বশুর নূর হোসেন শুধু স্বাক্ষর করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। অভিযানকালে উপস্থিত থাকা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, দালালদের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, ওই ডেন্টাল কেয়ারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বসেন। অনেকে চিকিৎসাপত্রও নিয়েছেন। কিন্তু তারা এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মাত্র তৃতীয় এবং দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা দুজন ভুয়া চিকিৎসক এখানে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি