ট্রমার ভাষা সবসময় কান্না নয়: ঠাকুরগাঁওয়ের ভাইরাল ভিডিও ও PTSD নিয়ে যা জানা জরুরি
ধর্ষণের শিকার হয়েও কেন হাসছিলেন তরুণী, ব্যাখ্যা দিলেন মনোবিজ্ঞানীরা
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে হাসতে দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং কেউ কেউ ঘটনার সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, চরম মানসিক আঘাত বা ট্রমার শিকার ব্যক্তির আচরণ সবসময় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলবে এমন ধারণা ভুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়াবহ ঘটনা, সহিংসতা বা যৌন নির্যাতনের মতো অভিজ্ঞতার পর অনেক ভুক্তভোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ নির্বাক হয়ে যান, আবার কেউ নার্ভাসনেস, বিভ্রান্তি বা মানসিক চাপের কারণে হাসতেও পারেন। এই ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেক ক্ষেত্রে ট্রমা-সম্পর্কিত শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মনোবিজ্ঞানে এটি ‘নার্ভাস লাফটার’ বা চাপজনিত হাসি হিসেবেও পরিচিত। বিশেষ করে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) বা তীব্র মানসিক আঘাতের পরিস্থিতিতে মানুষের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। ফলে ব্যক্তি এমন আচরণ করতে পারেন, যা বাইরে থেকে দেখে পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কোনো ভুক্তভোগীর মুখের অভিব্যক্তি, হাসি বা কান্নাকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়। ট্রমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয় এবং তা নির্ভর করে ঘটনার ভয়াবহতা, ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক পরিবেশ ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ওপর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বা ছবি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা কিংবা তার মানসিক প্রতিক্রিয়াকে উপহাস করা দ্বিতীয় দফা মানসিক আঘাতের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এমন ঘটনায় সংবেদনশীলতা, সহমর্মিতা এবং যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দেওয়া জরুরি।
মানবাধিকারকর্মীরাও বলছেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। কারণ ট্রমার প্রকাশ সবসময় একই রকম হয় না; অনেক সময় একটি হাসির আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর ভয়, অসহায়ত্ব এবং মানসিক যন্ত্রণা।
তাই কোনো ভুক্তভোগীর আচরণকে কেন্দ্র করে বিচার করার আগে ট্রমা সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে এমন সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান।
বিপি/এসআর
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব
পবিত্র আশুরা নিয়ে সিদ্ধান্তে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আগামীকাল
সঙ্গীত একাডেমি