ডুয়েটে নতুন ভিসির যোগদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থী-পুলিশসহ আহত ১৫
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্যের নিয়োগ ও যোগদানকে কেন্দ্র করে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। তারা ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। আরেকটি অংশ নতুন উপাচার্যের এই নিয়োগকে স্বাগত জানায়। নতুন ভিসিকে স্বাগত জানিয়েছে তারা ছাত্রদল সমর্থিত আর আন্দোলনকারীরা শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা বলে পরস্পরের দাবি। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিরোধীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। রবিবার সকালেও তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে গতকাল নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগ দিতে আসছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেন। এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডাও হয়।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক যোগদান করতে ডুয়েটে প্রধান ফটক পর্যন্ত গেলে উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে নতুন ভিসির সঙ্গে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয়ে উভয়ের প্রতি ইট-পাটকেল ছুড়া শুরু করে। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় চলে সংঘর্ষে। সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসের ভেতরে মূল ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধরা পুরাতন কাঠ জড়ো করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ৭ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে গাজীপুর মহানগর পুলিশের ৫ পুলিশ সদস্য, দৈনিক দিনকালের গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার দেলোয়ার হোসেন এবং উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।
ডুয়েটে সংঘটিত ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পৃথক বিবৃতিতে পরস্পরকে দায়ী করেছে।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়োগের পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থী লেবাসধারী ডুয়েটের ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট কিছু নেতাকর্মী এই নিয়োগ বাতিল করে ডুয়েট থেকেই উপাচার্য নিয়োগের বায়না তুলে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে। অথচ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ একটি বহুল চর্চিত বিষয়। কিন্তু এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে খুবই পরিকল্পিতভাবে ডুয়েট ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ডুয়েটের পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা, দলবাজি, অনৈতিকতা, স্বেচ্ছাচারি নিয়োগসহ নানা অভিযোগ আছে। এখন এই বিদায়ী প্রশাসন ও গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবির মিলে একত্রে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্যেই চার দিন ধরে জোরপূর্বক আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির করে রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাধারণ শিক্ষার্থী নামে গুপ্ত সংগঠনের কর্মীরা ডুয়েট ক্যাম্পাসে সাংঘর্ষিক একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অপরদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির এ হামলার জন্য ছাত্রদল, যুবদল ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নিজ ক্যাম্পাসে বহিরাগত কোনো শিক্ষককে নয়, বরং ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত তিন দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকালে ডুয়েটের প্রধান ফটকে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে ডুয়েট ও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে অংশ নেন। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
গাজীপুর সদর মেট্টো থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ভিসি নিয়োগ নিয়ে ডুয়েটে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াকালে ৭ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাভিক। ক্যাপাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের রয়েছে।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
মেঘনা ভাঙনে হুমকিতে উপকূল, জরুরি কাজের আশ্বাস পানিসম্পদ মন্ত্রীর
ডোমারে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে সেলাই প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সঙ্গীত একাডেমি