৫ আগস্ট ২০২৬

ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনা কোচ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনা কোচ

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পক্ষপাতিত্ব করছে—এমন গুরুতর অভিযোগের মুখে এবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টুর্নামেন্টে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা কোনোভাবেই আর্জেন্টিনার জয় দেখতে চান না; আর সেই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাকে জড়িয়ে এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার কথিত এই আনুকূল্য। মূলত নকআউট পর্বে মিশরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচে কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং এবং ভিএআর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই সমালোচনার সৃষ্টি হয়। 

ওই ম্যাচে মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং তাদের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর মিশরের কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এছাড়াও, কোনো কোনো সমালোচকের দাবি, ব্যবসায়িক স্বার্থেই বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চায় ফিফা। তবে এটি কোনো প্রমাণিত সত্য নয়, বরং নেহাতই ব্যক্তিগত মতামত বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। 

তবে সব ধরণের জল্পনা-কল্পনা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আসল বিষয়টা হলো, আমরা গতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি বলেই হয়তো এখন অনেক বেশি মানুষ আমাদের পরাজয় দেখতে চায়। আমরা এই বিষয়টি মাথায় রাখছি এবং সত্যি বলতে, এটা আমাদের খেলোয়াড়দের ওপরও প্রভাব ফেলে।’ 

তবে এই সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে দলগত অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন স্কালোনি। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘আমরা এই সমালোচনা ও মন্তব্যগুলোকে মাঠে বিদ্রোহ করার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছি। একটি যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলে খেলোয়াড়দের আরও দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে এটি উদ্বুদ্ধ করছে।’ 

এই ধরণের অভিযোগকে নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে স্কালোনি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ সালেও লোকে বলেছিল আমাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তাই এটা নতুন কিছু নয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা সবসময়ই টুর্নামেন্টে আলোড়ন সৃষ্টি করা দলগুলোর একটি। প্রতিপক্ষ বা একদল মানুষ চাইবেই না অন্য কোনো দল জিতুক, এটাই স্বাভাবিক।’ 

বর্তমান ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তির কার্যকারিতা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভিএআর-এর যুগে এসে কোনো নির্দিষ্ট দলকে রেফারিদের পক্ষে সাহায্য করা অসম্ভব বললেই চলে। এখানে দ্বিমুখী ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমাদের যে ওরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হয়েছিল, সেখানে সমস্ত ফুটেজ দেখিয়ে নিয়মগুলো একদম স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং টুর্নামেন্টে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে।’ 

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আগামী রোববার (১২ জুলাই) বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সূত্র: যুগান্তর
 বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি