ফ্রিজেও পচতে পারে মাংস, এড়িয়ে চলুন এই ভুলগুলো
ফাইল ছবি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির মাংস ঘরে ঘরে জমা হলেও সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ভুলভাবে মাংস রাখার কারণে শুধু স্বাদই নষ্ট হয় না, বরং খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই কোরবানির পর গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেন, যা একটি বড় ভুল। মাংস কিছু সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে নিতে হয়, তবে দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা ঠিক নয়। এছাড়া অতিরিক্ত গরম অবস্থায় ফ্রিজে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে অন্য খাবারও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা ০–৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের ক্ষেত্রে এটি হওয়া উচিত -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ফ্রিজ বারবার খোলা এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে ভেতরের ঠান্ডা বজায় থাকে।
সাধারণভাবে কাঁচা গরুর মাংস ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে কিমা ও কলিজার মতো অঙ্গজাত অংশ ১–২ দিনের মধ্যেই রান্না করা উত্তম। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার ব্যবহার করা নিরাপদ, যেখানে ভ্যাকুয়াম বা বায়ুরোধী প্যাকেটে মাংস কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
কিমা মাংস তুলনামূলকভাবে দ্রুত নষ্ট হয়, কারণ এতে বেশি অংশ বাতাসের সংস্পর্শে আসে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। একইভাবে কলিজা, কিডনি ও হৃৎপিণ্ডও খুব অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই এগুলো দ্রুত রান্না করা উচিত।
ম্যারিনেট করা মাংস কিছুটা বেশি সময় ভালো থাকলেও তা ৩–৫ দিনের মধ্যে রান্না করা নিরাপদ। ভিনেগার বা লেবুর মতো উপাদান ব্যাকটেরিয়া কিছুটা কমালেও পুরোপুরি প্রতিরোধ করে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নষ্ট মাংসের লক্ষণ যেমন দুর্গন্ধ, রঙ পরিবর্তন, পিচ্ছিল ভাব বা ছত্রাক দেখা গেলে তা কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় মসলার সাহায্যে দুর্গন্ধ ঢাকার চেষ্টা করা হলেও এটি বিপজ্জনক।
সঠিক সংরক্ষণের জন্য বায়ুরোধী প্যাকেট ব্যবহার, ছোট ভাগে মাংস রাখা, এবং ফ্রিজের সবচেয়ে ঠান্ডা অংশে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিজে রাখার সময় তারিখ লিখে রাখা এবং অতিরিক্ত সময় রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত।
রান্না করা মাংসও ফ্রিজে ৩–৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে, আর ফ্রিজারে প্রায় ৩ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। পুনরায় গরম করার সময় যথেষ্ট উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করতে হবে এবং বারবার গরম করা এড়িয়ে চলতে হবে।
কোরবানির আনন্দ নিরাপদ রাখতে হলে মাংস সংরক্ষণে সতর্ক থাকা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন