১৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল: টিকিটের দাম কত?

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল: টিকিটের দাম কত?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। আর সেই উন্মাদনার প্রভাব পড়েছে টিকিটের বাজারেও। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসেও নতুন রেকর্ড গড়েছে।

আগামী রোববার নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা আকাশচুম্বী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটির টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত যেকোনো ক্রীড়া ইভেন্টের গড় টিকিটমূল্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বর্তমানে ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে এই টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। দুই ফাইনালিস্ট দল নিশ্চিত হওয়ার পর কিছুটা কমেছে দাম।

অন্যদিকে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিটের মূল্য পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের টিকিট এই দামে বিক্রি হয়েছে। ফলে দুটি টিকিটের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।

টিকপিকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর পরেই রয়েছে ২০২৪ সালের সুপার বোল এলভিআইআইআই (গড় মূল্য ৯,৪১১ ডলার), ২০২১ সালের সুপার বোল এলভি (৭,৩১৩ ডলার), ২০২০ সালের সুপার বোল এলআইভি (৬,৫৪৬ ডলার) এবং ২০২৬ এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ (৬,৩০৮ ডলার)।   

এদিকে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর ওই ম্যাচের টিকিটের মূল্য প্রায় ৩০০ ডলার কমে গেছে।

টিকিট বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম সিটপিকের তথ্য বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় গড় টিকিট মূল্য ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার। সেমিফাইনাল পর্বে এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬২ ডলারে।

তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে টিকিটের দাম একটানা বাড়েনি। পুনর্বিক্রয় বা রিসেল বাজারে কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেও গেছে। বিশেষ করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর স্পেন-বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের মূল্য প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

প্রাথমিক মূল্য কত ছিল?

বিশ্বকাপের টিকিট প্রথম ধাপে বিক্রির সময় ফিফা ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিটমূল্য নির্ধারণ করেছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। পুনর্বিক্রয় বাজারের হিসাব বাদ দিলে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটিই ছিল ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল্য।

তবে ফিফার টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা ছিল। সংস্থাটি একবারে সব টিকিট বাজারে ছাড়েনি; বরং টুর্নামেন্ট চলাকালেও ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যব্যবস্থার কারণে টিকিটের দাম অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

ফলে অনেক সমর্থকের অভিযোগ, ২০২৬ বিশ্বকাপ সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ধনীদের আসরে পরিণত হয়েছে। সমর্থকদের এই অসন্তোষের প্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য টিকিট বিক্রির কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হবে। সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি