২২ জুন ২০২৬

হত্যা মামলায় চন্দ্রগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হোসেন ধোপা কারাগারে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
হত্যা মামলায় চন্দ্রগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হোসেন ধোপা কারাগারে

লক্ষ্মীপুর থেকে সংবাদদাতা : হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী লক্ষ্মীপুরের পূর্বাঞ্চলের ধোপা বাহিনীর প্রধান ও তথা কথিত চন্দ্রগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী হোসেন ওরফে হোসেন ধোপাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

লক্ষ্মীপুরের চাঞ্চল্যকর দত্তপাড়া বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ ছাত্র আবু ছায়েদ হত্যা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারির ১যুগপর গত বুধবার লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে আতœসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে আলী হোসেন প্রকাশ হোসেন ধোপা লক্ষ্মীপুর কারাগারে রয়েছে। হোসেন ধোপাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করার ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে এবং খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

জানাযায়, দত্তপাড়া বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের ছাত্র ও সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মেহের আলী হাজী বাড়ির মরহুম মহরম আলী মুন্সির ছোট ছেলে আবু ছায়েদকে বিগত ২০০১ সালের শুরুতে লক্ষ্মীপুরের পূর্বাঞ্চলের কুখ্যাত মতিন বাহিনী ও হোসেন ধোপা বাহিনীর ক্যাডাররা নিজ বাড়ি থেকে ডেকে এনে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত ছায়েদের বড় ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং জি আর ১৭৭/১। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে মতিন, নুরা হোসেন ধোপা, মোরশেদ, আবুল কালাম সহ অধিকাংশ আসামীর বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সার্জসীট দাখিল করে। ২০০৬ইং সালে মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয় এবং সার্জসীট ভুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যার মামলা নং দায়রা ২৭/২০০৬ ইং। উক্ত মামলা দায়েরের পর থেকে হোসেন ধোপা এলাকা ছেড়ে নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায় গিয়ে আতœগোপন করে ফেরিওয়ালার জীবন যাপন করে।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে হোসেন ধোপা সহ অন্য আসামীরা মামলাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের আবেদন করে।কিন্ত মামলার সার্বিক দিক বিচার বিশ্লেষণ করে কয়েকজন আসামীর নাম প্রত্যাহার করা হলেও হোসেন ধোপা সহ অধিকাংশ আসামীর নাম প্রত্যাহার করা হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার সহযোগীতায় হোসেন ধোপা তার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ধামা ছাপা দিয়ে রাখে। এ সময় সে নিজ এলাকায় ফিরে এসে এক সময় নাম সর্বস্ব পাক্ষিক নোয়াখালী মেইল পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করে।

পরবর্তীতে সে দৈনিক শক্তি যোগদান করে। সাংবাদিকতার পেশায় এসে তার দলের কয়েকজনকে নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ রিপোর্টাস ক্লাব নামে একটি ক্লাব করে চন্দ্রগঞ্জ বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। পরবর্তীতে সে আমার সংবাদ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে। ২০১৪ ইং সালে লক্ষ্মীপুর সদর থানার পূর্বাঞ্চলের ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা গঠিত হলে লক্ষ্মীপুর থানা থেকে নব গঠিত চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার সব ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য চন্দ্রগঞ্জ থানায় প্রেরণ করলে থানার তৎকালীন ওসি আব্দুল জব্বারকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে আবারো গ্রেপ্তারী পরোয়ানাটি ধামা ছাপা দিয়ে রাখে। এ সময় থানা পুলিশের সাথে সখ্যতা করে থানার দালালী ও নিরীহ মানুষকে হয়রানি শুরু করে।

এ দিকে চন্দ্রগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবকে চন্দ্রগঞ্জ প্রেস ক্লাব নামকরণ করে তার চাঁদাবাজির নতুন মেরু করণ করে ব্যবসায়িদের হয়রানি প্রেস ক্লাবের নামে সরকারি জমি জবর দখল সহ যাবতীয় অপকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তার দাফটের কাছে সবাই ছিল অসহায়। ভয়ে কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার সাহস করতনা। এ দিকে সে মিথ্যা ও বানোয়াট ঠিকানা ব্যবহার করে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন মাইটিভির রামগতি প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পত্র হাসিল করে চন্দ্রগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুসের উপর তার অপসাংবাদিকতার হাত চন্দ্রগঞ্জ এলাকাবাসীর উপর ধাবড়াতে থাকে। এ দিকে গত ৩ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আবারো গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারিহলে আলী হোসেন প্রকাশ হোসেন ধোপা টের পেয়ে রাতের আধারে ঢাকায় পালিয়ে যায়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত বুধবার বিচারিক আদালতে আতœসমর্পন করে। তার পর থেকে সে লক্ষ্মীপুর কারাগারে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের আমিনিয়া জামে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জবর দখল করে আলী হোসেন প্রকাশ হোসেন ধোপার বাবা ছৈয়দ আহাম্মদ ও তার ভাই আলী আহাম্মদ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় ধোপার কাজ করে আসছিল। বাবার সাথে সাথে আলী হোসেন ও তার ভাইয়েরাও একই পেশায় নিয়োজিত ছিল। পরবর্তীতে আদালতে মামলা করে জমির মালিক আদালতের নির্দেশে তাদের উচ্ছেদ করে জমির দখল নিলে তারা উক্ত জমি ছেড়ে গিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম লতিফপুর বটের দিঘির পাড় এলাকায় জমি কিনে বসবাস করে আসছে। বংশ পরস্পরায় এখনো তাদের পরিবার ধোপার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। জানাযায়, উক্ত মামলার প্রধান আসামী আব্দুল মতিন সহ কয়েকজন জামিনে বেরিয়ে গিয়ে বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে গেছে।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি