ইরফানের দাফন সম্পন্ন

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: টানা ২ বছর মারণ কর্কট রোগের সঙ্গে লড়াই করে এই কঠিন সময়েই চিরনিদ্রায় গেলেন অভিনেতা ইরফান খান। অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বলিউড। শেষবার কাছ থেকে দেখতে পেলেন না তাঁদের প্রিয় সহকর্মীকে। সাক্ষী থাকতে পারলেন না অভিনেতার শেষযাত্রায়। কারণ, করোনা রুখতে বর্তমানে গোটা দেশে জারি লকডাউন। বেলা ৩টে নাগাদ মুম্বইয়ের ভারসোভা কবরস্থানে চিরতরে শায়িত করা হয় অভিনেতা ইরফান খানের দেহ। নিয়মানুযায়ী, শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন ইরফানের দুই ছেলে বাবিল এবং অয়ন। শেষকৃত্যের সময় উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী সুতপা শিকদার এবং পরিবারের অন্যান্যরা।
ইরফানের পরিবারের তরফে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “পরিবারের সকলের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পরই কবর দেওয়া হয় তাঁকে। নিজের জীবনের এই যুদ্ধে তিনি বরাবরই শক্ত থেকেছেন, তাই এই কঠিন সময়ে আমাদেরও শক্ত থাকতে হবে।” এদিন মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতাল থেকেই ইরফানের মরদেহ সোজা নিয়ে যাওয়া হয় ভারসোভা কবরস্থানে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন কমেডিয়ান কপিল শর্মা এবং গায়ক মিকা সিং। এছাড়াও এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের পাশে থাকতে হাসপাতালে হাজির হয়েছিলেন পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ যিনি ইরফানের (Irrfan Khan) সঙ্গে ‘হায়দার’ এবং ‘সাত খুন মাফ’ ছবিতে কাজ করেছেন। ছিলেন অভিনেতার দীর্ঘ দিনের বন্ধু তিঘমাংশু ধুলিয়াও।
বিনোদন জগতের বাইরেও যে তিনি তাঁর কাজের প্রভাব ফেলেছিলেন তা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন শেষদিনেও। অভিনেতার অকাল প্রয়াণে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। ইরফানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
টুইটে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “ইরফান খানের মৃত্যু গোটা বিশ্বের চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতের ক্ষতি। ওঁকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে অত্যন্ত প্রতিভাশালী এক অভিনেতা হিসেবে। যে অভিনেতার অবাধ বিচরণ ছিল সর্বত্র। ওঁর পরিবার, বন্ধু এবং ভক্তদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
বছর খানেক আগে কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন ইরফান খান। বুধবার শোকবার্তা জ্ঞাপনের সময়ে সেকথাও উল্লেখ করেছেন। টুইটে লিখেছেন, “প্রখ্যাত অভিনেতা ইরফান খানের প্রয়াণে শোকাহত। ওঁর অসাধারণ সব কাজ আগামী প্রজন্মের কাছে একটা দলিল হয়ে থেকে যাবে। কয়েক বছর আগে কলকাতায় এসে ও আমার সঙ্গে দেখা করেছিল। আজ মনে পড়ে যাচ্ছে সেসব কথা। ওঁর পরিবার, বন্ধু এবং ভক্তদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি