১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিপিএ-৫ পাওয়া ঝিনাইদহের তানিয়ার চোখে হতাশা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
জিপিএ-৫ পাওয়া ঝিনাইদহের তানিয়ার চোখে হতাশা

ঝিনাইদহ থেকে সংবাদদাতা: দারিদ্রতাকে জয় করে এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তানিয়া সুলতানার। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত অদম্য মেধাবী ছাত্রী বাবা হারা মেয়েটিকে এতদিন এলাকার মানুষের সাহায্য লেখাপড়া করিয়েছে তার মা। কারন মা আছিয়া বেগম বাসা বাড়িতে কাজ করে যে টাকা উপার্জন করে তা দিয়ে তাদের খাওয়ার খরচই চলে না।তানিয়া সুলতানা ঝিনাইদহ কাঞ্চননগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উর্ত্তিণ হয়েছে।

শুধু তাই নয় সে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে এস এস সিতেও জিপিএ ৫ তুলেছে। উচ্চশিক্ষা নিয়ে ব্যাংকার হবার স্বপ্ন তানিয়া সুলতানার। কিন্তু এত ভাল ফলাফল করার পরেও অর্থাভাবে সে স্বপ্ন মিইয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলাফলের দিন যে উচ্ছলতা ভর করেছিল তার চোখে মুখে, দিন কয়েক যেতেই সেখানে হাজির কঠিন বাস্তবতার হতাশা।তানিয়ার বাবা নেই, মা আছিয়া বেগমের ভিটেমাটি পর্যন্ত নেই। ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার এক হৃদয়বান ব্যক্তির জমিতে মা মেয়ে ছোট্ট এটি কুড়ে ঘর বেধে সেখানে বসবাস করছেন দির্ঘ দিন ধরে। মা আছিয়া বেগম এলাকার বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। মেধাবী এ ছাত্রী পড়া লেখার পাশাপাশি টিউশনি করেছেন। তাতেই উঠে এসেছে নিজের হাত খরচটা। কিন্তু দারিদ্রতার তীব্র কষাঘাতে জর্জরিত মেধাবী এই তরুনীর শিক্ষার সেই স্বপ্ন কি পূরণ হবে? এমনই সংশয় তার মনে তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসীন্দা আব্দুল মজিদ জানায়, তানিয়া খুবই মেধাবী ছাত্রী। ছোট থেকেই সে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে। তার প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো। আমরাও যতটুকু পারি তাকে সাহায্য করি। কিন্তু সামনে উচ্চশিক্ষার ব্যায়ভার এই টাকা তানিয়ার মা আছিয়ার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই এলাকাবাসীও চায় বিত্তবান লোকেরা যেন তানিয়ার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

আছিয়া বেগম তার মেয়ের ভবিষ্যৎ ভাবনায় ছলছল চোখে বলেন, আমার মেয়ে এস এস সি তে ভালো ফলাফল করেছে। তা দেখে কাঞ্চননগর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা ফ্রি ভর্তি করিয়ে নেয় তানিয়াকে। বাসা বাড়িতে কাজ করে মায়ের উপার্যন এবং তানিয়ার টিউশনির টাকা দিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না। মা আছিয়া বেগম সরকারের কাছে আকুল আবেদন করেন যাতে সরকারি ভাবে তানিয়ার পড়া লেখার খরজ বহন করা হয়।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, তানিয়া সুলতানা আমার পতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠান থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় করেছি। সে খুব মেধাবী ছাত্রী। ভবিষ্যতে তানিয়ার মত মেয়েরা অনেক ভালো করবে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষরা যাতে তানিয়ার মত অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়ায় আমি এই আহ্বান করছি। তার মত মেধাবীকে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

Jalalabad Summer Bash


Jalalabad Summer Bash

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি