৩ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব: রিজভী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণেই দেশের অগ্রগতি সম্ভব: রিজভী

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সংকট মোকাবিলা করে খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সংবাদপত্রের জগৎ একটি বিশাল জগৎ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এই জগতের সঙ্গে যার সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর, আদর্শিক ও ব্যক্তিগত, তিনি হলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ভিত্তি দৃঢ় হয়।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন সময়েই সংবাদপত্রের ওপর কম বেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু বাকশালের মাধ্যমে যেভাবে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা আর কখনো হয়নি। অনেক মানুষ ও পরিবার সাংবাদিকতা কিংবা লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের সবকিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সেই অবস্থা থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনেন। সংবাদপত্র শিল্প, সাংবাদিকতা, লেখনী ও মুক্তবাক্যের অবাধ প্রবাহ আবার চালু হয়। আর সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান খালেদা জিয়া। ফলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে তার গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেটির জন্য তাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে হয়নি। সম্ভবত রমজান মাসের একটি ইফতার মাহফিল ছিল। সাংবাদিকদের কথাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তার ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। তার ইন্তেকালের পর মানুষের যে আবেগ, শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কীভাবে নিজের অবদান রেখে গেছেন।

রিজভী আরও বলেন, তার জানাজার দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না। কেউ কাউকে ডাকেনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ নিজ নিজ তাগিদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেরানি, পানের দোকানদার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তরের টানেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, অনেকে বলেছেন—ইমাম খোমেনির জানাজার পর এত বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। আমার মনে হয়েছে, পুরো ঢাকা শহর যেন মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন এক মহীরুহ। মহীরুহের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এমন এক মহীরুহের ছায়াতলে বসবাস করতাম। আজ সেই ছায়া যেন সরে গেছে। একটি পরিবারে বাবা-মা বৃদ্ধ হলেও তাদের অস্তিত্বই এক ধরনের সাহস দেয়। সেই অভিভাবকত্বের অনুভূতিটাই আজ আমরা হারিয়েছি।

জাতীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে  ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১/১১–এর সময় থেকে দেশ একটি দীর্ঘ ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই সময় একইভাবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলেছে। ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের সময় খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দিলেও ছাত্র-সেনা সংঘর্ষে কোনো পক্ষ নেননি। কারণ তার কাছে ছাত্র ও সেনাবাহিনী দুটোই সন্তানের মতো।

তিনি বলেন, এটিই প্রকৃত জাতীয়তাবোধ সব দ্বন্দ্ব বোঝা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। এই গুণই তাকে অনন্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করেছে।

রিজভী আরও বলেন, একবার আন্দোলনের সময় তার বাসা পুলিশ দিয়ে ঘেরাও হলে রাগের মাথায় তিনি গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেই সংশোধন করে বলেন, এটা বলা আমার ঠিক হয়নি গোপালগঞ্জও বাংলাদেশের একটি জেলা আমি একজন জাতীয় নেতা। এই উপলব্ধিই তার নেতৃত্বের গভীরতা।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বহু কটূক্তি ও অশ্লীল কথা বলা হলেও তিনি কখনো একই ভাষায় জবাব দেননি। সৌজন্য কিংবা নীরবতার মাধ্যমেই জবাব দিয়েছেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, কারাগারে নেওয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত করে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশের মানুষের জন্য অটল ছিলেন। অসীম ধৈর্য নিয়ে সংকট মোকাবিলা করেছেন। তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগোতে পারবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বারবার দমন করেও ধ্বংস করা যায়নি। কারণ এর নেতৃত্বে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—যিনি রাজনীতিকে নৈতিকতার উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।

এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শোকসভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের  সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা একেএম মহসিন, রাশেদুল হক, বাছির জামাল, এরফানুল হক নাহিদ, জাহিদুল ইসলাম রনি, দিদারুল আলম,সাঈদ খান, নুর উদ্দিন আহমেদ নুরুসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি