খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের সমাবেশে ট্রাম্পকে হত্যার ডাক
বাংলাপ্রেস ডেস্ক:ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক উঠেছে।
রোববার তেহরানের জনাকীর্ণ গ্যান্ড মোসাল্লার প্রার্থনা অনুষ্ঠানে খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে এই স্লোগান তোলে ইরানিরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আলি খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়। যুদ্ধের কারণে এতদিন খামেনির দাফনানুষ্ঠান করা হয়নি। এখন ইরানজুড়ে তার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা আনুষ্ঠান চলছে।
ইরানের বৃহত্তম মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতার জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের দাবিও জোরালো হয়ে উঠছে। বহু মানুষ আগের রাতেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হন।
অনেকেই সকাল ৮ টায় জানাজা শুরুর বেশ আগে থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকাসহ খামেনির ছবি এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা ছিল। তারা স্লোগান দিচ্ছিল ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’।
তাছাড়া, গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাঁটানো বিভিন্ন পোস্টার এবং দেয়াললিখনেও ট্রাম্পের পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান ছিল। সমবেত জনতার মধ্য থেকে সেই একই ডাক উঠছিল।
জানাজার নামাজের আগে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন কবি মোহাম্মদ রাসৌলি। লাউডস্পিকারে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন থেকে কাফনের কাপড়ই আমাদের পোশাক। আপনার রক্তের কসম, ট্রাম্পকে হত্যা করা এখন আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে? ট্রাম্পের জন্য পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নয়। যে ব্যক্তি আমাদের ইমামকে হত্যা করেছেন, আমরা কেন তাকে হত্যা করব না? তা না করা আমাদের জন্য কলঙ্কের।” এ সময় অধিকাংশ মানুষই তুমুল করতালির দিয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
এক মুদি দোকানি বলেন, “আমি চিৎকার করতে এবং প্রতিশোধ নিতে এখানে এসেছি। তারা আমাদের ইমামকে মেরেছে। আমাদেরও উচিত তাদের নেতা ট্রাম্পকে মারা।”
ওদিকে, আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত খলিল শিরঘোলামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আপনি মানুষকে হত্যা করতে পারবেন, কিন্তু তার আদর্শ নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছেন সত্য, তবে আদতে আপনারা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।”
“আপনারা কখনোও এটি উপলব্ধি করতে পারবেন না। কারণ, আপনাদের কোনও সভ্যতা নেই, ইতিহাস নেই, কোনও সম্মান নেই।”
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর বলেন, “জনগণ তাদের নেতাকে বিদায় জানাতে দুটি স্লোগান দিচ্ছে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ইরানের শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া।”
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার
বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামের কাছ থেকে ৬০০টির বেশি ড্রোন জব্দ করেছে এফবিআই
সঙ্গীত একাডেমি