কন্যাশিশু দিবস আজ, মেয়েদের স্বপ্ন পূরণে চাই সমান সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন, অধিকার ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার দিন আজ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
একটি মেয়ের স্বপ্ন শুধু তার নিজের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত নয়, বরং পরিবার ও সমাজের অগ্রগতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। কিন্তু এখনো অনেক কন্যাশিশুকে দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা, শিক্ষার সুযোগের অভাব ও বৈষম্যের কারণে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।
জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়।
কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা এবং ক্ষমতায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।২০২৬ সালের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন’। এর মাধ্যমে কন্যাশিশুদের নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সমান সুযোগ
একটি কন্যাশিশু চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা কিংবা শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।
সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন পরিবারের সমর্থন, মানসম্মত শিক্ষা এবং নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য না করে দুজনকেই সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি।
অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সিদ্ধান্ত, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা মেয়েদের শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাল্যবিবাহের কারণে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, সীমিত হয়ে পড়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগও। তাই কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপদ শৈশব ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি
শুধু পড়াশোনার সুযোগ দিলেই কন্যাশিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত হয় না। তার জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা। একই সঙ্গে পরিবারে ও সমাজে তার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।শিশুরা যেন ভয় বা সংকোচ ছাড়াই নিজেদের কথা বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করাও বড়দের দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হতে পারবে।
পরিবার থেকেই শুরু হোক পরিবর্তন
কন্যাশিশুর স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রথম ধাপ শুরু হয় পরিবার থেকে। তার পছন্দ, আগ্রহ ও সক্ষমতাকে সম্মান করা, পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং নিজের মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুল, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি প্রতিটি মেয়ের অধিকার ও সম্ভাবনাকে নতুন করে উপলব্ধি করার উপলক্ষ। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিজের স্বপ্ন দেখতে পারে, সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায় এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়তে পারে—এটাই হওয়া উচিত দিবসটির মূল প্রত্যাশা।
বিপি > এসপি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি