কুড়িগ্রামে পানিবন্দি হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম থেকে: নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এক বৃদ্ধা কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হু হু করে পানি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে জেলার ৯টি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় চলছে নদী ভাঙন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং নুন খাওয়া পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সবকটি উপজেলার নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নৌকা ও কলার ভেলা তৈরি করে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্যা দুর্গতরা বিপাকে পড়েছেন শিশু ও বয়ষ্ক সদস্যদের নিয়ে। এছাড়া রান্নার স্থান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শুকনা খাবারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সৃষ্ট বন্যায় জেলার ৯ টি উপজেলার ২৮ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া ৭শ’ ২৫ টি পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজগার আলী সরকার জানান, তার ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া, বাসন্তিপাড়া, মাঝিপাড়া, রায়পাড়া, টোন গ্রাম, উত্তর রমনা, খেউনি পাড়া সহ অন্তত ১৫ টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় এসব গ্রামের বাসিন্দারা ইউনিয়নের ওয়াবদা বেরিবাঁধ, জোরগাছ ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রিয়াজুল জান্নাত মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরও নতুন নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে জানান এই জনপ্রতিনিধি। ব্রহ্মপুত্রের পানি ইউনিয়নবাসীকে ঘরছাড়া হতে বাধ্য করছে জানিয়ে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন,‘ ভয়াবহ ভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আমার ইউনিয়নের মশালের চর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এখন পর্যন্ত ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। রবিবার সকাল হতে হতে অনেক বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।’ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: দেলওয়ার হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নে প্রায় ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবন যাপন করছে,যাদের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা পেলে বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চাহিদা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন,‘ বন্যা কবলিত এলাকার সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করছি। তালিকা অনুযায়ী সকলকে সহায়তা দেওয়া হবে।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
Jalalabad Summer Bash
সঙ্গীত একাডেমি