
সুলতানা মাসুমা, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: বিভিন্ন সময় লক্ষ্মীপুর পৌর-শিশু পার্ক তরুণ-তরুণীদের দখলে থাকলেও। এ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পার্কটি বেশিরভাগ শিশুদের দখলে।
বুধবার (৬ মে) বিকেল ৫ টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় প্রবেশ পথে।
এর আগে সকালে পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, শিশুপার্ক পরিদর্শন করেন।
শিশুরা আনন্দে মেতে উঠেছে বিনোদনে। অভিভাবকরা পাশে দাঁড়িয়ে একপলকে আদরের সন্তানদের খেলাধুলা দেখছেন।
অনেকেই আবার প্রিয়জনের কোমল হাতটি ধরে আপন মনে ঘুরে-ফিরেছে পার্ক জুড়ে।
শিশুদের জন্য এ পার্কে বিনোদনের নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, প্যাডেল বোট, ঘোড়া গাড়ি, বাম্পার কার, উড়ন্ত চেয়ার রয়েছে।
পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী তার ১০ বছরের ছেলে শ্রাবনকে নিয়ে পার্কে আসেন। তিনি জানান সকাল থেকে টিপ-টিপ বৃষ্টি। অলস সময় বাসায় পার করতে খুব কষ্ট হয়। দুপুরে পরে বৃষ্টি কমলে শ্রানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। পার্কে আসার পর শ্রাবন অপরিচিত শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছে। মনে হয় তারা (অপরিচিত) শিশুরা অনেক আগের চেনা।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো: ফরহাদ হোসেন জানান, করোনা গত দুই-বছরে দর্শনার্থী ও শিশুরা বন্দী ছিলো। এ বছর শিথিল থাকার কারণে দর্শনার্থীরা বেড়াতে বের হয়েছে। সত্যিই বহুদিন পর এ পার্কে মানুষের পদচারণ দেখে মুগ্ধ।
ঔষধ ব্যবসায়ী মোঃ সুমন বলেন, দীর্ঘদিন পর মা-শাশুড়ী স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পৌর শিশু-পার্কে এসে মানুষের ভীড় দেখে ১০/১৫ মিনিট থেকে বের হয়ে যান।
শহরের দক্ষিণ তেহমুণী এলাকার ব্যবসায়ী মো: শামসুল ইসলাম তার ৩ বছরের শিশু-কন্যা উম্মে হানি সাহদাকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে এসে জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন। তাই মেয়ে ও তার মাকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম। মেয়েকে রাইড ঘোড়া ও বাম্পার কারে তোলার জন্য ৫০ টাকা দিয়ে একটি টিকেট সংগ্রহ করি। ১ ঘন্টার পরও সিরিয়াল না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে যান।
লক্ষ্মীপুর পৌর-শিশু পার্কের পরিচালক রুপম হাওলাদার বলেন, করোনা মহামারির কারণে গত বিশেষ দিন গুলোতে জনশূন্য ছিলো পার্কটি। এ ঈদে মানুষের অনেক উপস্থিতি। নিরাপত্তার বিষয় জানতে চাইলে, রুপম হাওলাদার জানান, পার্কের চতুর্দিকে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের অনেক কর্মী রয়েছে নিরাপত্তায়।
লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, পুলিশের একটি টিম সর্বক্ষণ শিশুপার্ক এলাকায় টহলে রয়েছে।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]