
সুলতানা মাসুমা, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: ঈদের ৪র্থ দিন বুধবার অনেকটাই ফাঁকা রায়পুর-লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর আঞ্চরিক মহা-সড়কগুলো। গণপরিবহন না থাকায় বিপুল- সংখ্যক (অনিবন্ধিত) পরিবহন নেমেছে সড়কে। ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বাস না থাকায় অটোরিকসা ও সিএনজি চড়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত আনন্দ নামের গণপরিবহনের কম থাকার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে। অনেক যাত্রী হয়রানীর কারনেও থানায় অভিযোগ করেনা।
(১৪জুলাই) রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে প্রতিটি সড়কই এখন ফাঁকা। কর্মজীবী মানুষদের সিংহভাগ এখনো গ্রামের বাড়িতেই রয়েছেন। সোমবারই তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে শুরু করেছেন। প্রধান সড়কসহ অলিগলিতেও মানুষের সংখ্যা অনেক কম। নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। মানুষের কম উপস্থিতির কারণে সড়কে সুযোগ বুঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর রিকশা চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করছেন একাধিক ব্যাক্তি (যাত্রী)।
চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট থেকে রায়পুরে আসা শাহিনুর বেগম বলেন, স্বামী বিদেশ থাকায় সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবো। তবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস (আনন্দ ও বোগদাদ পরিবহন) না পাওয়ায় সিএনজি অটোরিকশায় যেতে চাইলাম। ৯০-১০০ টাকার ভাড়া চাইল ২৫০-৩০০ টাকা। এরুটে বাস থাকার সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা।
রায়পুর থেকে চাঁদপুর যেতে বোগদাদ ও আনন্দ পরিবহনের বাসের জন্য ট্রাফিকমোড়ে অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামের বাড়ি ঈদ করা বেসরকারি চাকরিজীবী সিমুল হোসেন। তিনি বলেন, অন্যদিন ১০ মিনিট পরপর এখান থেকে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের বাস পাওয়া যেত। আজ ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু কোন বাস নাই। তাছাড়া বাসের সংখ্যা রায়পুরে অনেক কম।
হায়দরগঞ্জ থেকে রায়পুর বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় এসেছেন আজিজ ইসলাম ও তার পরিবার। কিন্তু ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে জানিয়ে আজিজ বলেন, রায়পুরে আনন্দ পরিবহন ছাড়া অন্য কোন যাত্রীবাহি বাস নাই। তাই বাধ্য হয়ে সিএনজিতে এসেছি। বাস কম, মানুষের মুভমেন্ট আছে, এই পরিস্থিতি বুঝে লক্ষ্মীপুরে ৮০ টাকার কমে কোনো সিএনজি আসতে চাইল না। বাধ্য হয়ে আমরা ৫জন বেশি ভাড়ায় আসলাম।
উত্তর চরবংশি গ্রাম থেকে সিএনজি করে রায়পুরে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত রিকশায় আসা আব্বাস হোসেন নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, অনেক কষ্টে রায়পুর শহরে এসেছি। ঈদের ৪র্থ দিনও আনন্দ পরিবহন কম, এ সুযোগে দূরত্বের অজুহাতে বেশি ভাড়া ছাড়া যেতে চাচ্ছেন না সিএনজি-অটো চালকরা। বেশি ভাড়ার সঙ্গে তারা আবদার জুড়ে দিচ্ছেন, স্যার ঈদের বকশিশ দেন!
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আক্তার ও সজিবের সঙ্গে কথা হলো। তারা বলেন, ঈদের সময় এমনিতেই যাত্রী কম থাকে। তাছাড়া এরুটে গণপরিবহন কম। কিন্তু জমা-খরচ আমাদের কাছ থেকে কম নিচ্ছেন না মালিকরা। ঈদে পরিবারকে সময় না দিয়ে আমরা রাস্তায় নেমে গাড়ি চালাচ্ছি, সাধারণ মানুষ বিনোদনের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরছে। তাদের কাছ থেকে এভারেজ ভাড়ার পাশাপাশি ঈদ বোনাস হিসেবে কিছু বকশিশ চেয়ে নিচ্ছি। কেউ ইচ্ছে করেই ঈদ বকশিশ দিচ্ছেন। আবার অনেকের কাছে ২০/৫০ টাকা বেশি চেয়ে নিচ্ছি। এতে দোষের কোথায়-?
রায়পুরের ট্রাফিক মোড় থেকে সরকারি হাসপাতাল যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠে কথা হয় চালক এরশাদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের সময় আমরা গ্রামে (মেঘনা নদীর পাড়ে) ঈদ করতে যাইনি, একটু বাড়তি রোজগার হবে এই আশায় শহরে থেকে গিয়েছি। টুকটাক বাড়তি আয় হচ্ছে, তবে খুব বেশি নয়। আমরা গরিব মানুষ, একটু বেশি ভাড়া চেয়ে নিই যাত্রীদের কাছ থেকে। যাত্রীরাও খুশি হয়ে বকশিশসহ ভাড়া দেয়।
রায়পুরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শেখ রাসেল বলেন, আজও সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেকটাই কম। এখনও স্বাভাবিক হয়নি সাধারণ মানুষের চলাচল। ফলে কোথাও কোনো যানজট নেই, সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। রায়পুরে পূর্বের রূপে ফিরে আসতে রোববার পর্যন্ত লাগতে পারে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সিএনজি চালকদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]