
সুলতানা মাসুমা, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: উপকূলের বাসিন্দা মোমেনা বেগমের ঘরের ভেতরে-বাইরে থৈ থৈ পানি। দৈনিক তিনঘন্টা রান্না ঘরের চুলোও ডুবে থাকে পানির নিচে। এতে গত চারদিন ধরে বাড়িতে রান্না বন্ধ। এদিক-ওদিক থেকে টেনে টুনে চলে পরিবারের সদস্যদের খাবার। তিনি কমলনগর উপজেলা চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা।” শুধু মোমেনা বেগম ই নন, ভেড়ীবাঁধ না থাকায় মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে গত চারদিন ধরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার উপকূলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এতে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিস্তৃর্ণ ফসলী জমি। এতে চর দূর্ভোগে পড়তে হয় স্থানিয়দের। হতদিরদ্র মোমেনা বেগম হাজিরহাট বাজারে ম্যাচে ভাত রান্না করার কাজ করে সংসার চালান, পানির কারনে রান্না বা ঘরে থাকতে পারছেন ন তিনি, এক ছেলে,তাও অসুস্থ্য। জানা যায়, গত বুধবার থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত দুপুর ১টার পর থেকে জোয়ারের পানি উপকূলের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে থাকে। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়।
সরজমিনে কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের লুধুয়া বাজার এলাকা, চরলরেঞ্চ, কালকিনি, চরমার্টিন এবং মতিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পানি বন্দি হয়ে আছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়, মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানি খুব সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নদী ভাঙনসহ উপকূলীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কমলনগর উপজেলার কালকিনি, সাহেবেরহাট, পাটারীর হাট, চর ফলকন, চর মার্টিন, চর লরেঞ্চ ইউনিয়ন এবং রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চরগাজী, চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে জোয়ারের পানি উঠে পড়ে। চর ফলকন ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সবিউল্যা বলেন, নদীতে তিনবার বাড়ি ভেঙেছে। নিঃশ্ব হয়ে নদীর কাছেই বছরে চার হাজার টাকা ভাড়া জমিতে ঘর তুলে পরিবান নিয়ে থাকেন তিনি, মাছ ঘাটে লেবারের কাজ করে সংসার চলে তার।
কয়েক দিনের জোযারে তার ঘরে চুলোয় আগুন দিতে পারছেন না তিনি। চর কালকিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা বেচু মিয়া বলেন, পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানি গত ৪ দিন থেকে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তবে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার পানির পরিমাণ বেড়েছে। এতে নদীর তীর সংলগ্ন বসত বাড়িতে পানিতে উঠে গেছে। পানি ঘরের ভেতর ঢুকে যাওয়ায় শিশু সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ি তিনি। এছাড়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়ার কথা জানান নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা সেকান্দার ও নুরজাহান বেগম। স্থানীয় অজিউল্যা বলেন, টানা চারদিনের জোয়ারের পানিতে কমলনগরের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি এবং কাঁচা ঘরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। সরকার বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য ৩১শ কোটি টাকার প্রকল্প দেয়। কিন্তু আজও বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয়রা। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন উপকূলের মানুষের খবরই রাখেন না।
কমলনগরের চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফ উল্যা বলেন, জোয়ারের পানি নামার সময় উপকূলে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে অনেকের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই কথা জানান চর ফলকন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বাঘা।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান কে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি। বেড়ীবাঁধ নির্মান ধীরগতির বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ কে ফোন দিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]