১২ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন ফখরুল ও অলি, নাম ঘোষণা দুপুরে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন ফখরুল ও অলি, নাম ঘোষণা দুপুরে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দেশের নতুন অর্থাৎ ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদান আজ সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও দলীয় সূত্রমতে তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বিএনপির প্রার্থীর নাম। এরপর দলের পক্ষ থেকে বেলা ২টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা। এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজ বেলা ১১টায় তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট। এদিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। সেবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকায় প্রথমবারের মতো সংসদকক্ষে ভোট হয়। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল পাঁচ, সিপিবি পাঁচ, ইসলামী ঐক্যজোট এক, ন্যাপ (মোজাফফর) এক, গণতন্ত্রী পার্টি এক, এনডিপি এক, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) এক ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি আসন পেয়েছিল। সেবার ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। সব মিলিয়ে (নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ৩৩০ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ইসির কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। ৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেবারই প্রথম প্রকাশ্য ভোট হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। ভোটাররা প্রকাশ্যে ভোট দেন; ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিলেন তা নোটও নেন নিজ নিজ দলের এজেন্টরা। ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেয়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

’৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নূরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও তাঁকে ভোট দেন। গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াত ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ন্যাপের আবদুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সেদিন সংসদে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন। সংসদকক্ষের ভিতরে চারটি কক্ষে একযোগে ভোট শুরু হয় বেলা ২টায়। বিরতি ছাড়াই ভোট চলে ৫টা পর্যন্ত।

বিএনপি চেয়ারপারসন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকাল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি। ৫টা ৫ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭২ আর বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট।

এদিকে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এবারে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সদস্য ২৪৭ আর জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র আট, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, ইসলামী আন্দোলনের এক, বিজেপির এক, গণসংহতি আন্দোলনের এক, গণপরিষদের এক, খেলাফত মজলিসের এক ও জাগপার এক জন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ২০ আগস্ট। শুরুতে ভোটাভুটি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।’

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি