৩ এপ্রিল ২০২৬

ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির পর এবার ইউএনওকে নিয়ে অভিযোগ তুললেন রুমিন ফারহানা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১১ পিএম
ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকির পর এবার ইউএনওকে নিয়ে অভিযোগ তুললেন রুমিন ফারহানা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পর এবার উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব’ নিয়ে অভিযোগ এনেছেন তিনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক ভিডিও বার্তায় সরাইল উপজেলার ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, আমাদের সরাইলের ইউএনওর একটা দাপ্তরিক চিঠি ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে।  সন্ধ্যা নাগাদ বিভিন্ন পত্রিকা তাদের অনলাইন পোর্টালগুলোতে দাপ্তরিক চিঠিটি ছাপিয়েছে।  তার এই চিঠি একদিনের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। 

ভিডিওতে তিনি বলেন, চিঠিতে উনি লিখেছেন, উপর্যুক্ত বিষয়ের আলোকে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য ১৭/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ নামক স্থানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব রুমিন ফারহানা বিশাল প্যান্ডেলে জনসমাবেশ আয়োজন করে নির্বাচনি প্রচারণা করেন, যা নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর ১৮ ধারার লঙ্ঘন। তাৎক্ষণিকভাবে এ সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং উক্ত অপরাধে জনাব জুয়েল মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জনাব শাহরিয়া হাসান খান, সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। 

উল্লেখ্য যে, এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব রুমিন ফারহানা বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমণাত্মকভাবে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আঙ্গুল উঁচিয়ে বিভিন্ন রকম হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করেন।  তিনি আক্রমণাত্মকভাবে ইংরেজিতে ওয়ার্নিং দিয়ে বলতে থাকেন, ‘দিজ ইজ দ্যা লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিজ।  আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করবনা।  আপনাদেরকে এইরকম দেখায় (আক্রমণাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান), খোঁজ নেন, প্রশাসনে বইসা আছেন খোঁজ নেন।’ তার সঙ্গে থাকা জনৈক ব্যক্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন ‘বুইড়া আঙ্গুল দেখায়, আপনারা কিছু করতে পরেন না।’ একপর্যায়ে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তি উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে হুমকি প্রদান করতে থাকেন এবং জনগণকে ক্ষ্যাপিয়ে তুলে মব সৃষ্টি করেন এবং বলতে থাকেন ‘আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, আমার এই মানুষ, এইখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না, একপর্যায়ে তিনি বিজ্ঞ এক্সিকিউটিও ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে যাইতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন।  আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে শুনব না। ’ এসময় তার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্যরা মারমুখী আচরণ করেন (ভিডিও ক্লিপ সংযুক্ত)।  এতে মব সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাঁধা এবং কর্তব্যরত বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করেন যা নির্বাচনি আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।  আরও উল্লেখ্য যে, ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।  এতে করে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।  ইতোপূর্বে গত ১১/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ নির্বাচনি আচরণ বিধি লজ্জাবের অপরাধে তার সমর্থক আশিকুর রহমানকে ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো। 

রুমিন অভিযোগ করেন, যে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার নিজের সই করা চিঠির গোপনীয়তা ২৪ ঘণ্টা রাখতে পারেন না, তার হাতে ৫ লাখ ভোটারের ভোট কিভাবে আমরা আমানত হিসেবে ভরসা করে দিই? তিনি কিভাবে নির্বাচনের দিন নির্বাচনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন?

ভিডিওতে তিনি বলেন, ১৩ জানুয়ারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কিছু অভিযোগ আমি জেলা রিটার্নিং অফিসে (ডিসি অফিসে) দিয়েছিলাম। এখনও কিন্তু তার কোনো আপডেট পাইনি। সেই ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা, আমার জানা নেই। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী যিনি মাঠে আছেন, তিনি প্রতিদিন মাইকিং করে বড় বড় জনসভা করছেন। তার ফাইলও সংযুক্ত করে আমরা সরকারি দপ্তরে জমা দিয়েছি। কিন্তু স্টেজ বানিয়ে, সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে, মাইকিং করে তারা প্রতিদিন নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে ন্যূনতম সাহসও দেখি নাই।

তিনি আরও বলেন, এ প্রশ্নগুলো অনেক কারণেই করছি। এক, বড় দলের প্রার্থী যখন প্রতিদিন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারি কর্মকর্তাদের অবগত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দুই, স্বতন্ত্র প্রার্থীর যে বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা এসেছে, সেটি হলো আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একটি জনসভায় স্টেজে মাইকে বক্তৃতার সময় ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির দিকে এইরকম বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন। কারণ ওই গাড়িটি সিকিউরিটি পারপাসে সমাবেশস্থলের বাইরে ছিল। আমি সেই ঘটনার কথা বোঝাতে তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলেছিলাম। সেখানে ওই সভাপতি বলেছিলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের কিছু করতে পারেন না।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি