৩৪ বছর আগের হত্যাকান্ড
নিউ ইয়র্কে কিশোরী হত্যার দায়ে ভার্জিনিয়ার এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেরি লুইস (ডানে)
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউ ইয়র্কে ৩৪ বছর আগে ১৫ বছর বয়সী নাদিন স্লেডকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জেরি লুইসকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নাদিনকে ১৯৯২ সালের মে মাসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। ফার রকঅ্যাওয়ের একটি বহুতল বাড়ির বাথরুমে, যা পাশের একটি ইউনিটের সঙ্গে ভাগ করা ছিল, সেখানে তার মরদেহ পাওয়া যায়। সংরক্ষিত ডিএনএ নমুনা পুনরায় পরীক্ষার পর ২০২৩ সালের মে মাসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুইন্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিছেন,
ডিএ কাটজ বলেন,৩৪ বছর আগে নির্মমভাবে নিহত নাদিন স্লেডের জন্য অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলো। আমার কোল্ড কেস ইউনিট এবং নিউ ইয়র্ক পুলিশ কোল্ড কেস স্কোয়াডের অনুরোধে করা নতুন ডিএনএ পরীক্ষাই মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দেয় এবং জেরি লুইসকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করে। এখন হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করবে। আমরা কখনোই ভুক্তভোগীদের ভুলে যাই না এবং আশা করি আজকের এই রায় নাদিনের প্রিয়জনদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।
শ’ভিল, ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী লুইসকে গত মাসে দুই সপ্তাহের বিচার শেষে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের বিচারক কেনেথ হোল্ডার আজ তাকে ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ডিএ কাটজ জানান, অভিযোগ ও আদালতের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ৭ মে সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নাদিনের মা স্কুল বাসচালকের কাজ থেকে ফিরে তাদের ফার রকঅ্যাওয়ের অ্যাপার্টমেন্টের বাথরুমে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নাদিনের গলায় শক্ত করে বাঁধা ছিল একটি ব্রা। বাথরুমের সিঙ্কে পাওয়া একটি ক্যান ওপেনার ব্যবহার করে ব্রার ফিতা আরও শক্ত করে পেঁচানো হয়েছিল।
হত্যার সময় তদন্তকারীরা দেখতে পান, নাদিনকে পাওয়ার আগের রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও কয়েকজনের সঙ্গে সেই অ্যাপার্টমেন্টের পাশের ইউনিটে উপস্থিত ছিলেন। দুটি ইউনিটের মধ্যে বাথরুমটি ছিল যৌথভাবে ব্যবহৃত। অভিযুক্তের সঙ্গে নাদিন বা তার মায়ের কোনো পূর্ব পরিচয় ছিল না।
নিউ ইয়র্ক সিটি অফিস অব চিফ মেডিক্যাল এক্সামিনার (ওসিএমই)–এর ময়নাতদন্তে জানা যায়, নাদিনের মৃত্যু হয়েছিল ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধের কারণে। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায় এবং ভুক্তভোগীর নখের নিচ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
২০২২ সালে ডিএ কাটজের কোল্ড কেস ইউনিট এবং নিউ ইয়র্ক পুলিশ কোল্ড কেস স্কোয়াড (ওসিএমই-কে সংরক্ষিত নখের ডিএনএ পুনরায় পরীক্ষা করতে অনুরোধ করে। পরীক্ষায় পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইল জেরি লুইসের সঙ্গে মিলে যায়, যিনি আগে থেকেই একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী ছিলেন।
২০২৩ সালের মার্চে প্যারোল ভিজিটের সময় লুইসকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ১ মে ২০২৩ তাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কারেন এল. রস, ডিএ’র হোমিসাইড ব্যুরোর ডেপুটি ব্যুরো চিফ ও কোল্ড কেস ইউনিটের প্রধান। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেনি ইভানজেলিস্তা। পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেন জন কোসিনস্কি (ব্যুরো চিফ) এবং মেজর ক্রাইমসের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিএ শন ক্লার্ক।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
হরমুজ প্রণালি খোলার উদ্যোগ, জাতিসংঘের প্রস্তাব কতটা কার্যকর?
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি