২৯ এপ্রিল ২০২৬

ন্যায়বিচার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ন্যায়বিচার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

 


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেছেন, অর্থের অভাবে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না। আমরা মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ন্যায়বিচার থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত আইনগত সহায়তা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনই মানবিক হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশকেরও ফ্যাসিবাদি শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

যারা আর্থিকভাবে সামর্থবান নন, তাদের আইনি সহায়তা দিতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়, এটা প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব হয়ে উঠুক।


তিনি বলেন, কারাগারে থাকার সময় কাছ থেকে দেখেছি অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে বহু মানুষকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে বন্দি থাকতে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন আইন মানুষের ওপর যান্ত্রিক উপয়ে প্রয়োগ না হয়ে; বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারে রূপ নেয়। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, সেই অধিকার যেন রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে, এ জন্য সরকার যথাসাধ্য লিগ্যাল এইড দেবে।


তিনি বলেন, বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে মামলার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লিগ্যাল এইড ফান্ড গঠন করে সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তি সহজতর করেছিলেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এর আগে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি