অবৈধ ব্যাংক হিসাব বন্ধে নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
আবু সাবেত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ মে ২০২৬ তারিখে 'আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থায় সততা পুনরুদ্ধার' শিরোনামে একটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই আদেশের লক্ষ্য অবৈধ অভিবাসন, মাদক কার্টেল কার্যক্রম, অর্থপাচার এবং আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যাংক হিসাব শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা।
তবে আদেশটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি কোনো ব্যাংক হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ বা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় না। বরং আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ব্যাংকগুলো কীভাবে গ্রাহকদের যাচাই-বাছাই করবে, সে বিষয়ে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেয়।
২ জুন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল -এ লিখেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার 'শুধুমাত্র তাদের জন্য সীমিত হওয়া উচিত যাদের দেশে থাকার বৈধ অধিকার রয়েছে।' তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত বা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের কল্যাণভাতা (ওয়েলফেয়ার) সংরক্ষণে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবগুলো শেষ পর্যন্ত বন্ধ, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
কী নির্দেশ দিয়েছে নতুন আদেশ?
আদেশ অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট-কে এমন আর্থিক লেনদেনের ধরন চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে, যা সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
বেতন প্রদানের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে বারবার কম পরিমাণ নগদ উত্তোলন
শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর
শ্রম পাচার বা অফ-দ্য-বুকস (নথিবিহীন) মজুরি প্রদান
বৈধ অভিবাসন মর্যাদা যাচাই ছাড়াই ব্যক্তিগত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ
আদেশ অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে ট্রেজারি বিভাগকে Bank Secrecy Act-এর আওতায় নতুন বিধিমালার প্রস্তাব দিতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পরিচয় এবং হিসাবের প্রকৃত মালিকানা আরও কঠোরভাবে যাচাই করে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঝুঁকি বা নিয়ন্ত্রক উদ্বেগ দেখা দিলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারবে। এর মধ্যে গ্রাহকের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ও কর্মসংস্থানের অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্যও থাকতে পারে।
বিদেশি পরিচয়পত্র ও ঋণ যাচাই
১৮০ দিনের মধ্যে বিদেশি কনস্যুলার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলার নিয়মও পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরো (সিএফপিবি) -কে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে যে, সম্ভাব্য বহিষ্কার বা আয় হারানোর ঝুঁকি কোনো ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে কি না।
প্রশাসনের যুক্তি হলো, যাদের বৈধ কর্মসংস্থানের অনুমতি নেই অথবা যাদের আয় হারানোর ঝুঁকি বেশি, তাদের ঋণ দেওয়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নতুন আদেশটি কার্যকর হলে ব্যাংক, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অভিবাসীদের জন্য গ্রাহক যাচাই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী পরামর্শ দিলেন হুমায়ুন কবির?
হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা
সঙ্গীত একাডেমি