শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় সম্মিলিত নাগরিক সমাজ
ছবি: বাংলা প্রেস
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে অবিলম্বে রামিসার হত্যাকারীসহ সব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে তারা একই সঙ্গে দেশে হত্যা, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত করার আহ্বান জানান।
শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে "নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রুখে দাড়াও বাংলাদেশ"-শীর্ষক সম্মিলিত নাগরিক সমাজ আয়োজিত মানবন্ধন কর্মসূচীতে এসব দাবী জানান।
সংগঠনের সম্ন্বকারী ও প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট কবি নাহিদ আফরোজ লিজার সঞ্চালনায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ভয়েস অব কানসাস সিটিজেট-ভিসিসি চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কলাম লেখক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার এ এম ফয়েজ হোসেন, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক কবি অশোক ধর, জাতীয় নারী আন্দোলনের আহ্বায়ক কবি মিতা রহমান প্রমুখ।
ভিসিসি চেয়ারম্যান এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যাতে নিরাপদ থাকতে পারি। এই দায়িত্ব সরকারের, তেমনি জনগণেরও দায়িত্ব আছে অনেক। রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখতে চাই। আর কোন বমিসা যাতে না হয় সে জন্য সরকারকে কঠোর হকে হবে। রামিসা হয়তো ফিরে আসবে না। কিন্তু রামিসা হত্যার বিচারকে কেন্দ্র করে ছোট ছোট শিশুদের জীবন রক্ষা পাবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড, মাদক, অশ্লীলতা, কিশোর গ্যাং, বলৎকার ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১০দিনে দেশে পাঁচটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অবিলম্বে রামিসার হত্যাকারীসহ সকল ধর্ষন, বলাৎকারের সাথে জড়িত অপরাধিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ’
শ্রমিক নেতা ইঞ্জিনিয়ার এ এম ফয়েজ হোসেন বলেন, ‘একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আজ পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এমনকি জনপরিসরেও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতি জাতির জন্য গভীর লজ্জা ও উদ্বেগের বিষয়।’
সাংবাদিক ও কবি অশোক ধর বলেন, ‘রামিসাসহ সকল শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সর্বস্তরে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড আবুল হোসাইন বলেন, ‘শিশু রামিসার সাথে ঘটে যাওয়া বর্বর ঘটনা সমগ্র জাতির সাথে সাথে আমাদেরওকেও গভীরভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। রামিসার ওপর চালানো এই পাশবিক নির্যাতন শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি রাষ্ট্র কতটা নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয়ের দিকে গেলে শিশু পর্যন্ত নিরাপদ থাকে না, রামিসা হত্যাকান্ড তারই নির্মম প্রমাণ।'
তিনি বলেন, ‘ঘর থেকে স্কুল শুরু করে কোথাও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, যা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফল। অপরাধীরা বারবার শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে, তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে। একটি রাষ্ট্রের সফলতা নির্ভর করে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের নিরাপত্তার ওপর। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।’
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন