শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ভাই কামাল আহমেদ বাচ্চু। কিডনি জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই শিশুসাহিত্যিক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার রাতে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। টানা চারদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাদ জুমা ১টা ৩৫ মিনিটে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হবে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩টায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুর গোলারটেক যাওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিট রাখা হবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠককে।
মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে হবে তার তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা। তৃতীয় জানাজা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হবে। এটিই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি নিজেকে পুরোপুরি শিশুসাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত রেখেছিলেন। গল্প, ছড়া এবং শিশুদের উপযোগী নানা সৃজনশীল রচনার মাধ্যমে তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক।
শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর লেখায় শিশু-কিশোরদের আনন্দ ও কল্পনার জগতের পাশাপাশি জীবনের নানা দিক ও সামাজিক বাস্তবতাও উঠে এসেছে।
সাহিত্যের পাশাপাশি গণমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাহিত্য ও পেশাগত জীবনে তাঁর বহুমুখী অবদান তাঁকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।
আমীরুল ইসলামের মৃত্যুতে প্রয়াণে শোক নেমে এসেছে লেখক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বিদেশের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সঙ্গীত একাডেমি