২৮ অক্টোবর ২০২৬

স্কুল-মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা হবে একই প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
স্কুল-মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা হবে একই প্রশ্নপত্রে: শিক্ষামন্ত্রী


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: আগামীতে স্কুল ও মাদরাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া যায়। সবাই আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদরাসা ও স্কুলের পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে, নাকি আলাদা হবে? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গায় একই বিষয়ে ভর্তি হয়, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই আগামীতে স্কুল-মাদরাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর দেখব, মাদরাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়। তারপর পরীক্ষা করে দেখব।


পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।


পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব পরীক্ষক এই দুষ্টুমি করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনব।


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচণ্ড বোঝা! আমি এনটিআরসিএ করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিএতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবেন, সেখানে তারা নিয়োগ দেবেন। সর্বশেষ সরকার তাদের ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও নিয়োগ দিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় ঢালাও পোস্টিং দিয়েছে!


তিনি বলেন, এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকল যে আমাদের বদলি করতে হবে। আমি দেখলাম, কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে, তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি বদলির জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছি।


শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন সবাই বদলি চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মণিপুর, শাহীনের স্কুল! বুঝলেন তো?


বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেন—৩১ অক্টোবরের মধ্যে যদি বদলি না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদরাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!
বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি