১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঙ্গী নাক ডাকলে কী করবেন, জেনে নিন সমাধান

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
সঙ্গী নাক ডাকলে কী করবেন, জেনে নিন সমাধান

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে শুধু তারই নয় পাশে ঘুমানো ব্যক্তিরও ঘুম ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে দিনের বেলা ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঘুমের সময় শ্বাসনালীর উপরের অংশের নরম টিস্যু বা কলা কেঁপে উঠলে নাক ডাকার শব্দ তৈরি হয়। ‘ব্রিটিশ স্নোরিং অ্যান্ড স্লিপ অ্যাপনিয়া অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নাক ডাকেন। পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে,  নাক ডাকেন এমন ব্যক্তির পাশে ঘুমানো প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। 

নাক ডাকার কারণে ঘুমের ওপর যে প্রভাব পড়ে 

রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। অথচ শরীরের পুনরুদ্ধার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক ভারসাম্য বজায রাখতে গভীর ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ঘুমের ঘাতটির কাারণে দিনের বেলা ক্লান্তি, স্মৃতিশক্তির দূর্বলতা, কাজে মনোযোগের সমস্যা এবং মানসিক চাপের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ দিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দাম্পত্য সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কখন নাক ডাকা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বা নিয়মিত নাক ডাকলে সবসময় সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (ওএসঅ্যা)-এর লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে বারবার শ্বাস নেওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

Advertisement

সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণগুলো হলো-

• ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ মহয়ে যাওয়া

• রাতে হঠাৎ হাঁপিয়ে ওঠা বা দম বন্ধ লাগা

• ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া

• সকালে মাথা ব্যথা

• দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা ক্লান্তি

এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ‘কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিঅ্যাপি) চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, যা ঘুমের সময শ্বাসনালী খোলা রাখতে সহায়তা করে।

নাক ডাকা কমানোর উপায়

নাক ডাকোর পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়া না থাকলে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে সমস্যা কমানো যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন-

• স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা 

• ধূমপান পরিহার করা

• ঘুমানের আগে মদ্যপান এড়িয়ে চলা

• চিৎ হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে ঘুমানো 

• নাক বন্ধ থাকা বা অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা নেওয়া। 

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার করেও উপকার পাওয়া যেতে পারে, যা ম্বাসনালী খোলা রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বছরের পর বছর নাক ডাকাকে উপেক্ষা না করে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। ভালো ঘুম শুধু শারীরিক সুস্থতাই নয়, মানসিক শান্তি ও সম্পর্কের মানও উন্নত করতে সহায়তা করে।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি