৯ জুলাই ২০২৬

সংসদে ‘ডিম থেরাপি’র পরামর্শ দিলেন রেহানা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পিএম
সংসদে ‘ডিম থেরাপি’র পরামর্শ দিলেন রেহানা

নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  ব্যাংক খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

তিনি বলেন, ‘যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সকল ব্যাংক ডাকাত-ব্যাংক লুটেরাদের কোনও ক্ষমা নেই। কোনও ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক ফিরিয়ে এনে তাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে টাকা আদায় করতে হবে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি এবং মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লাখ লাখ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না, এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়। এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা কারও পেনশনের সঞ্চয় কারও সারা জীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল, ব্যাংক মানুষের আস্থার জায়গা, ব্যাংক থেকে টাকা লুট হলে মানুষ কোথায় যাবে। মানুষ যদি ব্যাংকে টাকা না রাখে বিনিয়োগ কমে যাবে, অর্থের প্রবাহ থেমে যাবে, দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।’

বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

নোটিশে তিনি আরও বলেন, ‘একজন মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে টাকা তুলতে পারছে না বলে সে চিকিৎসা করতে পারছে না। টাকার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না করাতে পেরে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন। লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে। এই মানুষগুলো বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কান্না, তাদের আর্তনাদ এই রাষ্ট্রের কাছে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংক-খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, একটি নির্বাচিত সরকার এই ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ বর্ণিত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক কেন্দ্র একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে।’ সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি